Image description

ঈদের নামাজ পড়ানোর জন্য ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর মোহনপুরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মারামারির ঘটনায় এক জামায়াত নেতার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।  

শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তারাবির নামাজের আগে ইমাম নিয়োগ নিয়ে আলোচনা শুরু হলে, এক পর্যায়ে সেখানে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় উভয়ের মধ্যে, কিছুক্ষণের মধ্যেই আলোচনাটি রুপ নেয় মারামারিতে। মারামারি থামাতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী মো. আলাউদ্দিন (৫০) এর ওপর হামলা চালানো হয়, সেই হামলায় কয়েকজন আহতসহ আলাউদ্দিন নিহত হন। 

স্থানীয়রা বলেন, বিএনপির স্থানীয় নেতা মোঃ ওমর ও মোঃ রাইসুলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী নৃশংসভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে আলাউদ্দিনকে এবং মৃত্যু নিশ্চিত করতে, পরে তারা পা দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে তাকে। তার নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত সমর্থিত নেতা কর্মীরা রাজশাহী - নওগা সড়ক অবরোধ করে আগুন দেয়, ঘটনা স্থলে একটা মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে জানা যায় ।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল খালেক বলেন, এ ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক ও কাপুরুষোচিত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। একটি শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ধরনের বর্বর হামলা সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।তিনি বলেন, ঘটনাটি বাংলাদেশের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার জন্য একটা দল পায়তারা শুরু করেছে এবং ঠান্ডা মাথায় এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তারা ঘটিয়েছে।

রাজশাহী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি গোলাম মুর্তজা বলেন, মোহনপুর উপজেলার সংশ্লিষ্ট এলাকায় নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে ।

তিনি আরোও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মোঃ ওমর ও মোঃ রাইসুল ইসলাম সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে গ্রেফতার নিশ্চিত করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। 

“সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগান দেওয়ার পরও বিএনপি বাস্তবে খুন ও সহিংসতার রাজনীতি শুরু করেছে। এই ঘটনা তারই প্রমাণ। মুলত রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গন ঐতিহ্যগতভাবে শান্তিপূর্ণ হলেও কিছু দুষ্কৃতিকারী এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যার ফলশ্রুতিতে এ ধরনের দুঃখজনক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

তিনি আরোও বলেন, বিএনপি কে বলবো, আপনাদের দলের সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রন করুন।নচেৎ কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হোন। চব্বিশের পর এমন হত্যাকাণ্ড মানুষ আর দেখতে চা ই না । 

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দ্রুত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত  উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে নয়তো এর দায় তাদের কে নিতে হবে, বলে জানিয়েছেন।