Image description

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু এলাকায়। রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষ। ফলে পদ্মা সেতুর দুই প্রান্ত মাওয়া ও জাজিরা টোল প্লাজায় বেড়েছে যানবাহনের চাপ। তবে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের যানজট ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে পরিবহন।

পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটিতে টোল আদায় হয়েছে মোট ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা। একই সময়ে সেতু পারাপার করেছে মোট ৪৩ হাজার ৩৫১টি যানবাহন। টোল আদায়ের দিক থেকে এটি এযাবৎকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ রেকর্ড।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাওয়া প্রান্ত দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ হাজার ৬৭টি যানবাহন পদ্মা সেতু অতিক্রম করেছে। এ প্রান্ত থেকে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা। 

অন্যদিকে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ১৫ হাজার ২৮৪টি যানবাহন। এ প্রান্তে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা।

সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ এখন ঢাকাসহ বিভিন্ন কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। এ কারণে টোল প্লাজাগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৬ জুন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে একদিনে সর্বোচ্চ ৫২ হাজার ৪৮৭টি যানবাহন পদ্মা সেতু পারাপার করেছিল। ওইদিন টোল আদায় হয়েছিল ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার ১০০ টাকা, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদায়ের রেকর্ড। 

এছাড়া একই বছরের ঈদুল ফিতরে একদিনে ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭০০ টাকা টোল আদায় হয়েছিল, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর ২০২৪ সালের ১৪ জুন আদায় হয়েছিল ৪ কোটি ৮০ লাখ ৩০ হাজার ১০০ টাকা, যা ছিল তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্তে বাড়ানো হয়েছে টোল আদায়ের সক্ষমতা। মাওয়া প্রান্তে একটি ইটিসি (ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন) লেনসহ ৭টি মূল বুথ এবং ৩টি মোটরসাইকেল বুথসহ মোট ১০টি বুথ চালু রাখা হয়েছে। 

অপরদিকে জাজিরা প্রান্তে রয়েছে ৭টি মূল বুথ ও ২টি মোটরসাইকেল বুথসহ মোট ৯টি বুথ। সব মিলিয়ে দুই প্রান্তে মোট ১৯টি বুথ সার্বক্ষণিক টোল আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এছাড়া মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে মাওয়া প্রান্তে অতিরিক্ত অস্থায়ী বুথ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ।

তিনি জানান, পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু থাকায় যানবাহন থামানো ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় করা সম্ভব হচ্ছে। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত টোল পরিশোধ করা যাচ্ছে। এতে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে না এবং ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে। এজন্য সেতুর উভয় প্রান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, টোল আদায়কারী কর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।