Image description

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘টিকটকে’ অতিরিক্ত আসক্তি নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী লিমন মল্লিককে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সুমনা ফেরদৌসী (২২) নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা এবং লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিমন মল্লিক পেশায় চায়ের দোকানদার ও কাঠমিস্ত্রি। লিমনের দাবি, তার স্ত্রী সুমনা অধিকাংশ সময় টিকটক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত থাকতেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতেন। এই বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল।

সোমবার সকালে টিকটক ব্যবহার নিয়ে দুজনের মধ্যে ফের চরম বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লিমন তার স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করলে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর লিমন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে সুমনার মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে লিমন স্বাভাবিকভাবে কাজে চলে যান। বিকেলে বাড়ি ফিরে তিনি ঘরের দরজা খুলে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন।

খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে সুরতহাল প্রতিবেদন ও পারিপার্শ্বিক আলামত দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে রাতেই লিমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন।

লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন মল্লিক তার স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। টিকটকে আসক্তি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর