লোহাগড়ায় ৭ বছর ধরে ‘ঝুলে’ আছে ৩৪২ কোটি টাকার বেড়িবাঁধ প্রকল্প
নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মানুষের আজীবনের স্বপ্ন ছিল একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধ। মধুমতী নদীর ভাঙন আর প্লাবন থেকে অন্তত ছয় হাজার একর ফসলি জমি ও হাজারো ঘরবাড়ি রক্ষায় ৩৪২ কোটি টাকার বিশাল প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও ৭ বছরে তা আলোর মুখ দেখেনি। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা, মামলার জট আর প্রশাসনের সমন্বয়হীনতায় প্রকল্পটি দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে এখন অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লোহাগড়ার কোটাকোল থেকে ধলইতলা পর্যন্ত ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ২০১৯ সালে একনেক সভায় ৩৪২ কোটি টাকা অনুমোদন পায়। দীর্ঘ তিন বছর আদালতের নিষেধাজ্ঞায় কাজ আটকে থাকার পর ২০২৩ সালে পুনরায় কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হলেও বর্তমানে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। নামমাত্র কিছু খননকাজ ছাড়া মূল বাঁধের কাজ থমকে আছে।
প্রকল্পের জন্য ১৬১ জন ভূমি মালিকের জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২৪ জন ব্যক্তি ক্ষতিপূরণের অর্থ হাতে পেয়েছেন। বাকি ভূমি মালিকদের অভিযোগ, পৈত্রিক জমির ন্যায্য পাওনা বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত তারা কাজ করতে দেবেন না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এসএ ইউবি জে বি’-এর ব্যবস্থাপক মিলন আলী জানান, "জমি পুরোপুরি বুঝিয়ে না দেওয়ায় এবং স্থানীয়দের বাধার কারণে আমরা কাজ করতে পারছি না। বারবার কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।"
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা দাবি করেন, জেলা প্রশাসন জমি চিহ্নিত করে দিলেও স্থানীয়রা সেই সীমানা সরিয়ে ফেলছেন। অন্যদিকে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হোসনে আরা তান্নি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "জেলা প্রশাসন বারবার লাল পতাকা দিয়ে জমি চিহ্নিত করে দিয়েছে। আবেদন পাওয়া সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়া হচ্ছে।"
সামনে ভরা বর্ষা মৌসুম। এরই মধ্যে মধুমতী নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। দ্রুত বেড়িবাঁধের কাজ শেষ না হলে লোহাগড়ার অন্তত ১৫টি গ্রামের ফসলি জমি আর বসতভিটা আবারও তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাত কাটছে হাজারো মানুষের। এলাকার ভুক্তভোগী মানুষের দাবি, প্রকল্পের টাকা লুটপাট বা ফাইলবন্দি না রেখে দ্রুত এর সুফল নিশ্চিত করা হোক।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments