Image description

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলা প্রথম পত্রের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে। এবারের পরীক্ষায় এক অভিনব পরিসংখ্যান ফুটে উঠেছে; চট্টগ্রাম মহানগরীতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক ধাক্কায় প্রায় ১২ হাজার কমলেও উপজেলার ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। সেখানে পরীক্ষার্থী বৃদ্ধির নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের পরীক্ষায় চট্টগ্রাম মহানগর থেকে অংশ নিয়েছিলেন ৪৮ হাজার ৪৮০ জন পরীক্ষার্থী। তবে এবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৬৮৩ জনে। অর্থাৎ কেবল নগরেই পরীক্ষার্থী কমেছে ১১ হাজার ৭৯৭ জন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পরীক্ষার্থী কমার এই মিছিলে ছাত্রীর সংখ্যাই বেশি (৬ হাজার ৭৯৮ জন)।

বিপরীত দিকে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১০ হাজার ৮২৪ জন। এর মধ্যে উপজেলার ক্ষেত্রে ছাত্র বেড়েছে ৩ হাজার ৯৯৪ জন এবং ছাত্রী বেড়েছে ৬ হাজার ৮৩০ জন। তবে সামগ্রিকভাবে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে পাঁচ জেলায় (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা) এবার মোট পরীক্ষার্থী ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, যা গত বছরের তুলনায় ৩ হাজার ২৮৭ জন কম। এবারের পরীক্ষায় মানবিক বিভাগেই সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী কমেছে।

বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলাভিত্তিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা— কক্সবাজার জেলায় ১২ হাজার ২৫৫ জন, রাঙামাটিতে ৫ হাজার ৪৩৯ জন, খাগড়াছড়িতে ৭ হাজার ৩৫৩ জন এবং বান্দরবানে ৩ হাজার ৬৬৭ জন। পাঁচ জেলার মোট ২৮৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা তদারকির জন্য ১৫টি সাধারণ ও ৮টি বিশেষ টিমসহ মোট ২৩টি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে।

সামগ্রিক পরীক্ষার্থী হ্রাস এবং নগরে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, "সুনির্দিষ্ট কোনো গবেষণা ছাড়া এই পরিবর্তনের কারণ বলা কঠিন। তবে আমরা সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর