Image description

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুরে শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও অংশীজনদের সমন্বয়ে “ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেটিভ ইভেন্ট ২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার সকালে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে “স্ট্রেন্থেনিং স্টার্ট-আপ, ইনোভেশন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন” শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত এ আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ), শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

গোলটেবিল আলোচনায় শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে ফলপ্রসূ ও টেকসই সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি তাঁর বক্তব্যে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও স্টার্ট-আপ সংস্কৃতি বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ইউজিসির গৃহীত নীতিগত সহায়তা ও পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণাকে বাস্তবমুখী ও বাজার উপযোগী করে তুলতে হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলা আবশ্যক, যার জন্য ইউজিসি নীতিগতভাবে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এজন্য বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তৃতীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যা এ বছর ডিসেম্বরের মধ্যেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম এজেন্ডা হিসেবে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশনকে জোরদার করতে এ বছর জাতীয় পর্যায়ে ইনোভেশন ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছে।”

প্রধান অতিথি আরও বলেন, “সরকার এ বছর বাজেটে স্টার্ট-আপ সংস্কৃতি উন্নয়নের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। পাশাপাশি ক্রিয়েটিভ ইকোনমি খাতে ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী দশ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ক্রিয়েটিভ ইকোনমির অবদান জিডিপির ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেওয়া হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তা ও গবেষকদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য উপযুক্ত অর্থায়ন, পরামর্শ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। এ ধরনের গোলটেবিল আলোচনা সেই লক্ষ্য অর্জনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।”

শিল্প প্রতিনিধিদের নিয়ে এ ধরনের গোলটেবিল আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি ডুয়েট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে ডুয়েটের উন্নয়নে ইউজিসির পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন ও স্টার্ট-আপ সংস্কৃতি বিকাশে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বিত সহযোগিতা ছাড়া গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বাস্তবে রূপ দেওয়া কঠিন। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই ডুয়েট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণা, ইন্টার্নশিপ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্র সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে। কার্যকর একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় সম্ভব হবে।”

উপাচার্য প্রতি তিন মাস পরপর ডুয়েটে এ ধরনের আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন এবং প্রতি ছয় মাস পরপর ইউজিসিতে প্রতিবেদন প্রেরণের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা মানসিকতা গড়ে তোলা এবং তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোকে বাণিজ্যিকীকরণের দিকে এগিয়ে নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম লক্ষ্য।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যের সঙ্গে ঐকমত্য প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ইউজিসির নীতিগত সহায়তা পেলে ডুয়েট আরও দ্রুততার সঙ্গে একটি সমন্বিত উদ্ভাবন বাস্তুসংস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।”

উপাচার্য দেশের উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপির বিভিন্ন উদ্যোগ, বিশেষ করে তৃতীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ডুয়েটে গ্লোবাল ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালকবৃন্দ, আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান, ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. হাসান মোহাম্মদ মোস্তফা আফরোজসহ শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্যানেল আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য এবং একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত স্বাগত বক্তব্য দেন পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন।

এরপর ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. হাসান মোহাম্মদ মোস্তফা আফরোজ “ডুয়েটে গবেষণা ও উন্নয়ন এবং উদ্ভাবন সুবিধাদি” শীর্ষক একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অবকাঠামো এবং উদ্ভাবন সহায়ক সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের মডারেটর হিসেবে বক্তব্য দেন আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান। তিনি দিনব্যাপী আলোচনার মূল বিষয়বস্তু সংক্ষেপে তুলে ধরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সব অতিথি ও অংশগ্রহণকারীকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানের র‌্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইকিউএসি-এর অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম।

শিল্পখাত ও অংশীজনদের মধ্যে বিডিরেন, ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেড, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, নেসলে বাংলাদেশ, আকিজ সিরামিকস, উর্মি গ্রুপ, ম্যাক্স গ্রুপ, জেনকোর সল্যুশনস, ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসাল্ট্যান্টস লিমিটেড, মাসকো গ্রুপ, ডিক্যাথলন, র‌্যাঙ্কন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ইনোভেশন আইটি লিমিটেড, জি-উইজেটস কোম্পানি লিমিটেড এবং ইকোটেক্স লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

গোলটেবিল আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও সমাপনী বর্ষের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে “দ্য ফিউচার অব ইয়ুথ ইন বাংলাদেশ ইন দ্য পারস্পেকটিভ অব অন্ট্রাপ্রেনারশিপ অ্যান্ড সফট স্কিল ডেভেলপমেন্ট” শীর্ষক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে নেওয়া বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের এসব উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান। বক্তব্য শেষে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরে জেনকোর সল্যুশনসের সিইও ও সাবেক ডুয়েটিয়ান জিশান আহাম্মদ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর কর্মজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

এসএ