Image description

ঢাকার চার শতাধিক বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে বর্ণিল ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’ আয়োজন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই শোভাযাত্রায় হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়ক।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নগর ভবনে গিয়ে শেষ হয়। ঢাকার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, খাবার, পুরোনো বাহন ও নগরজীবনের নানা অনুষঙ্গ শোভাযাত্রায় বড় পরিসরে তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ছিল লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, লালকুঠি, তারা মসজিদ, ঢাকেশ্বরী মন্দির, বৌদ্ধ মন্দির এবং ঐতিহ্যবাহী ঢাকা গেটের প্রতিকৃতি।

শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঢাকার পত্তন ও বিকাশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের রূপায়ণ। রানি ভিক্টোরিয়া, নবাব খাজা আহসানউল্লাহ, লীলা রাগ (রায়), নিকোলাস পোগোজ, জিন্নাবাই ও পরিবিবির মতো ঐতিহাসিক চরিত্রের আদলে সাজা অংশগ্রহণকারীরা নগরীর অতীতকে যেন জীবন্ত করে তোলেন।

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিও ছিল আয়োজনের অংশ। বাকরখানি, নান্না বিরিয়ানি ও বিউটি লাচ্ছির প্রতিকৃতির পাশাপাশি পুরোনো যাতায়াত ব্যবস্থার স্মৃতিবাহী স্টিমার, ঘোড়ার গাড়ি ও পালকির প্রদর্শনী পথচারী ও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে।

শোভাযাত্রা শেষে নগর ভবনে ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, ঢাকার প্রতি নাগরিকদের ভালোবাসা, মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীলতা জাগিয়ে তুলতেই এই আয়োজন। ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য নগরবাসীর পাশাপাশি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। নগরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য ডিএসসিসির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।

রাস্তার দুই পাশে নানা বয়সী মানুষের ভিড় এবং বর্ণিল পোশাকে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণী ও শিশু-কিশোরদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় পুরান ঢাকার এক প্রাণবন্ত উৎসবে।
এমআর