Image description

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনাই একমাত্র কার্যকর পথ বলে ফের জানিয়েছে চীন। তেহরানের ওপর নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর শুক্রবার এ অবস্থান জানাল বেইজিং।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সংলাপ ও আলোচনা সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র কার্যকর পথ। তিনি বলেন, চীন অবৈধ ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে। এ বিষয়ে দেশটির অবস্থান ধারাবাহিক ও স্পষ্ট।

এদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। তার দাবি, ইরান তার সেনাদের বেতন দিচ্ছে না। একই সঙ্গে এই মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসারও আগ্রহ নেই তার। ফলে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার পথেই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন। দেশটির অর্থনীতিকে কার্যত চাপে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘাত, অর্থনৈতিক অবরোধ এবং ইরানের অভ্যন্তরে অস্থিরতা ও বিভাজন তৈরির চেষ্টার পরও যুক্তরাষ্ট্র এখনো কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রকে আর কোনো বিদেশি যুদ্ধে জড়ানোর প্রতিশ্রুতি না থাকলেও যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পরও সংঘাত চলছে।

নিরাপত্তার নতুন মডেল খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর বিদ্যমান বিভাজনগুলো স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে দেশগুলোকে একত্র হয়ে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা খুঁজতেও বাধ্য করেছে বলে মনে করেন মিডল ইস্ট কাউন্সিল অব গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের জ্যেষ্ঠ ফেলো মুহানাদ সেলুম।

আল জাজিরাকে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটির বিনিময়ে নিরাপত্তা দেওয়ার যে প্রচলিত ব্যবস্থা ছিল, তা যুদ্ধের মধ্যেই পরীক্ষিত হয়েছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা দিতে পারেনি।

এর পর কয়েকটি দেশ নতুন ধরনের দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। এর মধ্যে কাতারের সঙ্গে ন্যাটো ও তুরস্কের এবং কুয়েতের সঙ্গে পাকিস্তানের চুক্তির কথা উল্লেখ করেন সেলুম। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানও ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করেছে। তবে এসব নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা এখনো বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা পরীক্ষা হওয়া বাকি।

যুদ্ধের প্রভাবও উপসাগরীয় দেশগুলোতে সমান ছিল না। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ওমান ও সৌদি আরব কম ক্ষতির মুখে পড়েছে।

সেলুম বলেন, গত জুন থেকে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—তারা শুধু যুদ্ধের সম্মুখসারিতে বা রণক্ষেত্রে নেই; বরং এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় আর্থিক মূল্যও তাদেরই দিতে হয়েছে।
এমআর