বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি ‘রেইনবো নেশন’ যেখানে ধর্ম, বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। এই বাংলাদেশে কারো পরিচয় ধর্ম দিয়ে হবে না, সবার পরিচয় হবে কেবল বাংলাদেশি।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু, ত্রয়োদশ সংঘরাজ অগ্রমহাপণ্ডিত ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরোর প্রয়ানোত্তর পূণ্যস্মৃতি স্মরণে ‘জাতীয় অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ’ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রয়াত ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরোর কর্মময় জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে আমীর খসরু বলেন, “তিনি কেবল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের গুরু ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন মানবসেবা ও শান্তি বিস্তারের এক অনন্য আলোকবর্তিকা। অনাথদের সেবা করা এবং অন্যের সুখে সুখী হওয়ার যে দর্শন তিনি শিখিয়ে গেছেন, তা আজ আমাদের সমাজের জন্য অত্যন্ত জরুরি।”
রাজনীতিতে ধর্মের নৈতিক শিক্ষার অভাব নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ধর্মের মূল বাণী হলো শান্তি ও সেবা। এটিই রাজনীতিরও মূল চালিকাশক্তি হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বর্তমান রাজনীতি সেই আদর্শ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। বিএনপি বর্তমানে দেশে সেই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুন্দর সহাবস্থান ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে।”
বিএনপির ‘রেইনবো নেশন’ দর্শনের ব্যাখ্যা দিয়ে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই অনন্য ধারণার পথপ্রদর্শক। একটি রংধনু যেমন নানা রঙের সমন্বয়ে সুন্দর হয়ে ওঠে, তেমনি বাংলাদেশের সৌন্দর্যও এর বৈচিত্র্যের মাঝে। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি থাকবে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে সবাই সমান হবে। আমরা এমন এক উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি যেখানে জাতীয় জীবনের সব স্তরে সাম্য বজায় থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের সুফল বিশেষ করে মানসম্মত শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং সম্মানজনক কর্মসংস্থান যেন প্রতিটি সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। তিনি ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরোর আদর্শ কেবল মুখে না বলে বাস্তব জীবনে ধারণ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির নেতৃবৃন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু সুফিয়ান, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইস্রাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বৌদ্ধ ভিক্ষু, পণ্ডিত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিপুল উপস্থিতিতে এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments