শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যবসায়ী ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গভীর রাতে আহত ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তিনজনকে সুনির্দিষ্টভাবে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- কনেশ্বর এলাকার সোহাগ খান (২৭), রাব্বি মোল্লা (২১) ও পলাশ সরদার (২৫)। তবে ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক থাকায় পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকায় এই বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে। খোকন চন্দ্র দাস দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কেউরভাঙা বাজারে ওষুধের ব্যবসা এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কাজ করে আসছিলেন। এলাকায় তিনি একজন জনপ্রিয় ‘পল্লী চিকিৎসক’ হিসেবে পরিচিত।
প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও দোকান বন্ধ করে ব্যবসায়িক প্রায় ৬ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। তিলই বাসস্ট্যান্ডে নেমে পায়ে হেঁটে বাড়ির দিকে যাওয়ার পথে তিন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে খোকনের শরীরের চারটি স্থানে গুরুতর আঘাত করে। একপর্যায়ে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। যন্ত্রণায় কাতর খোকন নিজেকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিক পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার তার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হলেও শরীরের বড় একটি অংশ পুড়ে যাওয়ায় এবং আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় কেউরভাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এনাম মুন্সি বলেন, “খোকন চন্দ্র একজন অত্যন্ত সৎ ও মানবিক মানুষ। তিনি এলাকার গরিবের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত। তার কোনো শত্রু ছিল বলে আমাদের জানা নেই। এমন বর্বরোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
প্রতিবেশী নিখিল দাস জানান, এই ঘটনার পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনার পর থেকেই খোকনের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস, স্ত্রী সীমা দাস ও স্কুলপড়ুয়া ছেলে শান্ত দাস হাসপাতালে অবস্থান করছেন। ছেলের এই অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বৃদ্ধ বাবা।
তিনি বলেন, “টাকা পয়সা নিয়েও তারা ক্ষান্ত হয়নি, আমার ছেলেকে ওরা পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল। আমরা এই নরপশুদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। তাদের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আশা করছি দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments