প্রার্থিতা বাতিলের পর সরকারি কর্মকর্তাদের হাততালির অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর
প্রশাসনের ভেতরে এখনও ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসররা সক্রিয় এবং তাদের প্রভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
ড. আযাদ দাবি করেন, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের ঘোষণা আসার পর উপস্থিত কিছু সরকারি কর্মকর্তাকে আনন্দ প্রকাশ করতে ও হাততালি দিতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, “যারা প্রশাসনের দায়িত্বে থেকে এমন আচরণ করে, তারা কখনো নিরপেক্ষ হতে পারে না। এটিই প্রমাণ করে যে প্রশাসনে এখনও ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রভাব রয়ে গেছে।”
মনোনয়ন বাতিলের কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার হলফনামায় ঋণখেলাপি, ট্যাক্স ফাঁকি বা কোনো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নেই। ২০১৩ সালের একটি আদালত অবমাননার মামলাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায় ও বৈষম্যমূলক। কারণ, আদালত অবমাননার মামলা কোনো ফৌজদারি বা ক্রিমিনাল অপরাধের সংজ্ঞায় পড়ে না।”
সাবেক এই সংসদ সদস্য আরও উল্লেখ করেন, একই ইস্যু ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও উঠেছিল। তখন আইনি পর্যালোচনার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা এটিকে অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য করেননি। এমনকি ওই মামলার সাজার পরও তিনি দেড় বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সংসদ বা আদালত কেউই সেটিকে ফৌজদারি অপরাধ বলেনি।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “যাচাই-বাছাইয়ের বিরতির সময় আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে নতুন পিটিশন গ্রহণ করা হয়েছে। এটি নিরপেক্ষতার ন্যূনতম মানদণ্ডও রক্ষা করেনি।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. আযাদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। কিন্তু প্রশাসনের ভেতরে দলীয় প্রভাব ও পুরনো রাজনৈতিক মামলাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এই পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধ না হলে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে তা জাতির জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে আনবে।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অবিলম্বে প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের অপসারণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
ড. আযাদ আরও জানান, তিনি ইতোমধ্যে বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পুনরায় শুনানির আবেদন করেছেন এবং প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments