হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) হুমকি দেওয়ার ঘটনায় আলোচিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসান জামিন পেয়েছেন। গ্রেপ্তারের ১৫ ঘণ্টা পর আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মাত্র ২০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল ৭টার দিকে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মাহদীকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ হাজির করা হয়। বিচারক আব্দুল মান্নান অপরাধটি জামিনযোগ্য বিবেচনায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। মাহদী হাসানের আইনজীবী আশরাফুল বারী নোমান রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এটি একটি জামিনযোগ্য অপরাধ ছিল, তাই আদালত ২০০ টাকা বন্ডে তাঁর জামিন দিয়েছেন।”
এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই সময় পুলিশ সুপার ইয়াসমিন খাতুন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সুনির্দিষ্ট মামলার বিষয়ে পরে জানানোর কথা বলেছিলেন। মাহদীকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা সদর মডেল থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একপর্যায়ে থানার সামনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক নয়নকে পুলিশ আটক করলে শুক্রবার তাঁকে ছাড়িয়ে আনতে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় যান মাহদী হাসান। সেখানে ওসির সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মাহদী বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণে আজকে এই প্রশাসন বসেছে। আমরা বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছি, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছি।”
এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কমিটি মাহদীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয় এবং তাঁর সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করে। পরবর্তীতে গতকাল বিকেলে এক ভিডিও বার্তায় মাহদী তাঁর ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে উল্লেখ করে সবার কাছে ক্ষমা চান।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments