Image description

চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার বিরোধিতা করে বন্দর রক্ষায় জাতীয় আন্দোলন গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ। এ বিরোধীতার জন্য ছয় কারণ ব্যাখা করেছেন তিনি।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), জেলা কমিটি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ ব্যাখা তুলে ধরেন।

অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ বলেন, ছয়টা কারণে আমরা চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে চুক্তির বিরোধিতা করছি। এক নম্বর হলো- স্ট্যাটেজিক বা ভূরাজনৈতিক কারণ, দ্বিতীয়ত হচ্ছে- আমাদের তো দেশীয় সক্ষমতা আছে, তারপরও আমরা সেটা বিদেশিদের কেন দিচ্ছি ? এরপর যে কোম্পানিকে দেওয়া হচ্ছে, ডিপি ওয়ার্ল্ড, সেই কোম্পানির তো অন্য জায়গার রেকর্ড খারাপ। চার নম্বর হচ্ছে- আমাদের টোটাল কার্গো ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানের সঙ্গে এটা খাপ খাচ্ছে না। আবার ৪০ বছরের জন্য দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু ৪০ বছরে অন্যান্য বন্দরের অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে একটা প্ল্যান না করলে তো এটা রক্ষা পাবে না।

‘পাঁচ নম্বর হচ্ছে- নন কমপ্লায়েন্স, যদি চুক্তির মাঝখানে তারা এদিক-ওদিক করে, যেটা খুবই স্বাভাবিক, এরা করবেই, করলে পরে আমাদের হাতে লাঠি আছে কী না, তাকে আমরা ধরতে পারব কী না। আর ছয় নম্বর হলো- আমরা ৪০ বছরের জন্য জাতীয় সম্পদ নিয়ে একটা চুক্তি করব, কেন সেটা জনগণের পার্লামেন্টে আলোচনা না হয়ে একটা অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার সেটা করবে এবং এত তাড়াহুড়ো করে কেন সেটা হবে ? সুতরাং, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে চুক্তির বিরুদ্ধে জাতীয় একটি আন্দোলন গড়ে তোলা এখন কর্তব্য বলে আমরা মনে করি।’

মতবিনিময় সভায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে বলেন, ‘এই ষড়যন্ত্রের সূচনা হয়েছিল ১৯৯৭ সালে, যখন তৎকালীন সরকার এস এস কোম্পানিকে ১৯৮ বছরের জন্য বন্দর ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। সেসময় মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং দেশের বিভিন্ন কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান বন্দর ইজারা দেশের জন্য ভালো হবে বলে মত দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালেই হাইকোর্টে এস এস কোম্পানি একটি জালিয়াত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রমাণিত হয়।’

‘বর্তমানে গোপন চুক্তির মাধ্যমে লালদিয়ার চর ও পানগাঁও ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আশঙ্কাজনকভাবে তখনকার সেই একই চক্র আজও বলছে, এসব উদ্যোগ নাকি দেশের জন্য মঙ্গলজনক। অথচ তাদের দেওয়া তথ্য যে মিথ্যা, তা আগেই প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং, তাদের বক্তব্য বিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে যুক্তি দেখিয়ে ফাইল তৈরি করা হয়েছিল, আজও সেই বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। তখন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যেহেতু বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যাচাই-বাছাই করেছে, তাই নতুন করে টেন্ডারের প্রয়োজন নেই। এখনো একই ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়, একটি স্বার্থান্বেষী বৈশ্বিক দুষ্টচক্র বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর সম্পদ লুণ্ঠনের জন্য বিভিন্ন কৌশলে তৎপর রয়েছে। নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর নৈতিকভাবে এই সরকারের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও কৌশলগত চুক্তি করার কোনো এখতিয়ার নেই।’

জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লা বাহারের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহআলম, টিইউইসি জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, শ্রমিকদল বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, খোরশেদুল আলম, রবিউল হক শিমুল, আল কাদেরী জয়, জাহিদ উদ্দিন শাহিন, ইব্রাহীম খোকন, তসলিম হোসেন সেলিম।

মানবকণ্ঠ/ডিআর