Image description

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের বুধাইরহাট বাজারে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাবেদ শেখ (২০) নামে এক তরুণ গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁর বাম হাত বিস্ফোরণে ক্ষতবিক্ষত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে বিবাদমান দুটি পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে অন্তত শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত বছর ৫ এপ্রিল ও ২ নভেম্বর ওই এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। তৎকালীন বিস্ফোরক মামলায় জলিল মাদবর বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকা ছেড়েছেন। বর্তমানে কুদ্দুসের পক্ষে মান্নান ব্যাপারী এবং জলিলের পক্ষে নাসির ব্যাপারীর লোকজন নতুন করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

জানা গেছে, গত শনিবার রাতে বুধাইরহাট এলাকায় ৮-১০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনার জেরে রোববার সকালে দুই পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে তারা বাজারের দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দুটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ককটেল ছুড়তে গিয়ে জাবেদ শেখের বাম হাত গুরুতর জখম হয়।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মান্নান ব্যাপারী ও নাসির ব্যাপারী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ্ আহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "বুধাইরহাট বাজারে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সেখান থেকে চার বালতি তাজা ককটেল উদ্ধার করে। দুই পক্ষের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে একজন আহত হয়েছেন এবং তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।"

ওসি আরও জানান, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। যারা এ ধরনের নাশকতামূলক ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর