Image description

নিহত যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার

চট্টগ্রামের রাউজানে মোটরসাইকেলে করে এসে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট এলাকার সিকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবদল নেতা মুহাম্মদ জানে আলম সিকদার (৪৬)। রাউজান উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বাড়ি ওই ইউনিয়নের সিকদার বাড়ির হাজী হামদু মিয়ার পুত্র। সেই ২ ছেলে ১ কন্যা সন্তানের জনক।

তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া আলহাজ্ব  গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান , মুখোশ পরা তিন যুবক মোটরসাইকেলে করে এসে জানে আলমের বাড়ির সামনে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এরপর তাঁরা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ৯টার  দিকে জানে আলম পাশের অলিমিয়াহাট বাজার থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে পৌঁছালে মোটরসাইকেল আরোহীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্বৃত্তদের পালিয়ে যেতে দেখেন। পরে বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকা জানে আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ আহমদ নিশ্চিত করে বলেন, জানে আলম আমার এলাকার বাসিন্দা। মোটরসাইকেল আরোহীরা এসে জানে আলমকে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যান। তাঁর বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। তিনি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের সদস্য ছিলেন। কী কারণে তাঁকে গুলি করা হয়েছে, কি কারণে তাকে হত্যা করেছে  এবিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

পূর্ব গুজরা তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ বিকাশ চন্দ্র জানান, আমরা হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিহত জানে আলমের বাড়ীর সামনে মোটরসাইকেলে আসা তিনজন মুখোশধারী গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যান। বিস্তারিত তদন্ত করে জানানো হবে।

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতাসহ বিভিন্ন ঘটনায় ১৭ জনের বেশি খুন হয়েছেন।