হাড়কাঁপানো শীত আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার চরাঞ্চলসহ পুরো জনপদ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র এই শৈত্যপ্রবাহে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে চারপাশ; বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা বহুগুণ বেশি অনুভূত হচ্ছে। সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে। কনকনে ঠান্ডায় ক্লাসে অংশ নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী রেজাউল জানায়, “সকালে পানিতে হাত দেওয়া যাচ্ছে না, সব বরফের মতো ঠান্ডা। এই শীতে পড়াশোনা করতে বাইরে যাওয়া অনেক কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হলেও ঠান্ডায় কাজ করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ভ্যানচালক সামাদ বলেন, “শীতের অনেকগুলো কাপড় পরেছি, তাও শীত মানছে না। ভাড়ার জন্য বের হয়েছি কিন্তু রাস্তাঘাটে লোকজন কম, ভাড়াও পাচ্ছি না।” শীত থেকে বাঁচতে অনেক স্থানে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের উত্তাপ নিতে দেখা গেছে ছিন্নমূল মানুষকে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বাড়ছে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, “আজকের ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি জেলায় ৬.৮ ডিগ্রি এবং ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি সর্বনিম্ন ৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।”
এদিকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments