Image description

রাজধানীর শনির আখড়া থেকে নিখোঁজ হওয়া অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার নজরুল ইসলামের (৪৮) গত ৩ বছরেও কোনো সন্ধান মেলেনি। ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পুলিশের তদন্তে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় চরম উৎকণ্ঠা ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার।

নিখোঁজ নজরুল ইসলাম বরগুনার বেতাগী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি অগ্রণী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় কর্মরত ছিলেন এবং সপরিবারে রাজধানীর শনির আখড়ায় থাকতেন। তিনি সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মো. মাজহারুল ইসলামের ভগ্নিপতি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উত্তরখানের একটি বাসার ভাড়া তোলার কথা বলে শনির আখড়ার ভাড়া বাসা থেকে বের হন নজরুল। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য সকল স্থানে খুঁজেও তার হদিস না পাওয়ায় ৯ জানুয়ারি উত্তরখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে ২৬ এপ্রিল যাত্রাবাড়ী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন তার স্ত্রী রুবিনা নজরুল। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগের ডেমরা জোনাল টিম।

নিখোঁজ নজরুলের ভাই কৃষিবিদ সাইদুর রহমান জানান, "আমরা ডিবি, র‍্যাব ও পুলিশসহ সকল বাহিনীর দপ্তরে ঘুরেছি। নিখোঁজের সন্ধানে পুলিশের প্রতিটি থানায় চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং শনাক্তকরণের জন্য বোনের ডিএনএ পরীক্ষাও করানো হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সুখবর মেলেনি।"

নজরুলের বোন মঞ্জু আক্তার ও কামরুন নাহার অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, "তিন বছর হয়ে গেল, ভাই বেঁচে আছেন না মরে গেছেন তাও জানি না। আমরা আমাদের একমাত্র অভিভাবককে হারিয়ে আজ দিশেহারা। সাবেক সরকারের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারক লিপি দিয়েছিলাম, ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পরও নানা মহলে যোগাযোগ করেছি। আমরা বর্তমান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মাধ্যমে আমাদের ভাইয়ের সন্ধান চাই।"

নজরুল-রুবিনা দম্পতির দুই ছেলে। বড় ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন এবং ছোট ছেলে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাবিদ্যায় পড়ছেন। বাবার অনুপস্থিতিতে পুরো পরিবারটি এখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে, তবে এখন পর্যন্ত তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মানবকণ্ঠ/ডিআর