Image description

চট্টগ্রাম অঞ্চলে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, ঘন কুয়াশা এবং উত্তরের হিমেল হাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে মিরসরাইসহ পুরো চট্টগ্রামের জনজীবন। 

সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোর থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় এবং ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ায় দুপুর গড়িয়ে গেলেও দেখা মিলছে না সূর্যের। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোরের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি থাকে যে কয়েক হাত দূরের কিছু দেখাও দুষ্কর হয়ে পড়ে। হিমেল বাতাসে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কর্মজীবন। বিশেষ করে রিকশাচালক, দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। 

বড়তাকিয়া বাজার এলাকার রিকশাচালক আবুল কালাম বলেন, "ভোরে বের হলে শরীর কাঁপে, হাত-পা শক্ত হয়ে যায়। রাস্তায় যাত্রীও কম, আয় অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে।"

উত্তরবঙ্গ থেকে মিরসরাইয়ে কাজ করতে আসা দিনমজুর আলমগীর জানান, "এই শীতে কাজে দাঁড়ানোই কষ্টকর। কাজ না করলে পেটে খাবার জোটে না, আবার ঠান্ডার কারণে দীর্ঘক্ষণ কাজও করা যাচ্ছে না। পরিবারে টাকা পাঠাতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।"

শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। সর্দি, কাশি, জ্বর এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, শুষ্ক আবহাওয়া এবং ধুলোবালির কারণে শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধরা এই বৈরী আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

কৃষিখাতেও পড়ছে শীতের নেতিবাচক প্রভাব। টানা কুয়াশা এবং সূর্যালোকের অভাবে শীতকালীন সবজি ও বোরো ধানের চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। রোদ না থাকায় ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, তীব্র এই শীতের মধ্যেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বা কম্বল বিতরণের কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শ্রমজীবী মানুষ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন চট্টগ্রাম অঞ্চলে শীতের এই তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর