মাদারীপুরে যৌতুকের বিরুদ্ধে মামলা করায় ফাতেমা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মাদারীপুর পৌরসভার উকিলপাড়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি মাদারীপুর সদর উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামের মোবারক গৌড়ার মেয়ে ফাতেমার সঙ্গে একই ইউনিয়নের সাবেক কালিকাপুর গ্রামের রাহাত গাছীর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ ৪ লাখ টাকা, ৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই আরও অতিরিক্ত যৌতুকের দাবিতে ফাতেমার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুকের টাকা না পেয়ে রাহাতের বড় ভাই রাসেল গাছী তার ভাইকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে দেন। এরপর রাসেল ও তার পরিবারের সদস্যরা ফাতেমার কাছে নতুন করে যৌতুক দাবি করতে থাকেন। গত ৩১ ডিসেম্বর তারা ফাতেমার বাবার বাড়িতে গিয়ে তাকে মারধর ও হুমকি দেন। নিরুপায় হয়ে ফাতেমা গত ১ জানুয়ারি মাদারীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বামী রাহাত ও ভাসুর রাসেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
এই মামলার জের ধরে সোমবার সন্ধ্যায় ফাতেমা যখন শহরের পানিছত্র এলাকা থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন, তখন উকিলপাড়া এলাকায় রাসেল ও তার সহযোগীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করা হয়। ফাতেমার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, "খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments