Image description

শীতের সকালে এক গ্লাস টাটকা খেজুরের রস গ্রামবাংলার এক চিরায়ত ঐতিহ্য। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ঠেলে সেই আদি অকৃত্রিম স্বাদ নিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী এলাকায় ভিড় করছেন অসংখ্য রসপ্রেমী। স্থানীয়দের মুখে মুখে এখন একটাই নাম—গাছি শহীদ। তার সংগৃহীত খেজুর রসের সুনাম এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কনকনে শীত উপেক্ষা করে ভোরের আলো ফোটার আগেই, এমনকি অনেক সময় গভীর রাতেও রসের সন্ধানে হামছাদী এলাকার খেজুর বাগানে ছুটে আসছেন মানুষ। তবে বিপুল চাহিদার তুলনায় রসের জোগান সীমিত হওয়ায় অনেককেই খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।

গাছি মো. শহিদ মোল্লা (৪৬) ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা। গত ১২ বছর ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে খেজুর বাগান চুক্তিতে নিয়ে এই মৌসুমি ব্যবসা করে আসছেন। চলতি মৌসুমে সোনারগাঁয়ের হামছাদী এলাকায় ১০ শতাংশ জমির একটি খেজুর বাগান ৫০ হাজার টাকায় লিজ নিয়েছেন তিনি।

বাগানটিতে থাকা ২৭টি গাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৬৫ লিটার রস সংগ্রহ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি লিটার কাঁচা রস ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শহিদ মোল্লা জানান, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে রস সংগ্রহ শুরু হয়েছে, যা ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত চলবে। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় দুই লাখ টাকার রস বিক্রি করেছেন এবং মৌসুমের বাকি সময়ে আরও অন্তত এক লাখ টাকার রস বিক্রির আশা করছেন।

শহিদ মোল্লা বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ রস নিতে আসে। বাগান ছোট হওয়ায় সবার চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না। এই তিন মাসের আয় দিয়েই আমাদের সারা বছর চলতে হয়। মানসম্মত ও বিশুদ্ধ রস সরবরাহ করতে আমরা দিনরাত পরিশ্রম করি।”

এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাইদ তারেক জানান, বর্তমানে বড় পরিসরে প্রণোদনা দেওয়ার সুযোগ সীমিত থাকলেও খেজুর রস উৎপাদনকারীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্যবাহী খাতকে টিকিয়ে রাখতে গাছিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর