বাউফলে বন্ধ চাতালের নামে সরকারি গুদামে ঢুকছে নিম্নমানের চাল
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সরকারি চাল সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। উৎপাদন কার্যক্রম গত তিন বছর ধরে বন্ধ থাকলেও তিনটি অচল চাতালকে চাল সরবরাহের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে উপজেলা খাদ্য বিভাগ।
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে বাইরের খোলা বাজার থেকে নিম্নমানের চাল কিনে গুদামে সরবরাহ করছেন এসব মিল মালিকরা।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাউফল উপজেলার বগা ও কালাইয়া খাদ্য গুদামের জন্য ১ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কালাইয়া গুদামের জন্য ৫৫০ মেট্রিক টন ও বগা গুদামের জন্য ৯৮০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে। প্রতি কেজি চালের সরকারি দাম ধরা হয়েছে ৫০ টাকা। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাঁচটি চাতালের (রাইস মিল) সঙ্গে চুক্তি করা হয়। মিলগুলো হলো— সোনাই অটো রাইস মিল, সিকদার অটো রাইস মিল, সুচিত্রা রাইস মিল, হিরোন বালা রাইস মিল ও মেসার্স প্যাদা রাইস মিল।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, মিল মালিকরা স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে নিজস্ব চাতালে প্রক্রিয়াজাত করে উন্নত মানের চাল সরবরাহ করবেন। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, সোনাই ও সিকদার অটো রাইস মিল চালু থাকলেও বাকি তিনটি— সুচিত্রা, হিরোন বালা ও মেসার্স প্যাদা রাইস মিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। মিলগুলোতে গত তিন বছর ধরে ধান সিদ্ধ বা শুকানোর কোনো কার্যক্রম নেই; যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে এবং ভবনগুলোতে তালা ঝুলছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুচিত্রা রাইস মিলের মালিক রমেশ সাহা এরই মধ্যে নওপাড়া এলাকা থেকে চাল কিনে এনে ২৬ মেট্রিক টন সরবরাহ করেছেন। কাগজে-কলমে নিজস্ব চাতালে ধান প্রক্রিয়াজাত করার কথা বলা হলেও গুদাম সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরবরাহকৃত চাল অত্যন্ত নিম্নমানের। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রমেশ সাহা সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান।
পাশেই অবস্থিত হিরোন বালা রাইস মিলের মালিক শঙ্কর দাস স্বীকার করেছেন যে তিনি বাইরে থেকে চাল কিনে সরবরাহ করবেন। তিনি অকপটে বলেন, "সবাই বাইরে থেকে কিনে সরবরাহ করে। অফিসের সবাইকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই আমরা চাল সরবরাহ করি।" একই কথা জানিয়েছেন প্যাদা রাইস মিলের মালিক আবদুর রশিদ প্যাদা।
চাতাল মালিকদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষক মিল্টন প্যাদা ও আলমগীরসহ অনেকে জানান, চাতাল মালিকরা স্থানীয় বাজার থেকে ধান কিনলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পেতেন। কিন্তু বাইরে থেকে নিম্নমানের চাল কিনে সরবরাহ করায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. নুরুল্লাহ বলেন, "চুক্তি করার সময় চাতালগুলো চালু ছিল।" তবে দীর্ঘ তিন বছর বন্ধ থাকা চাতাল কীভাবে চুক্তিবদ্ধ হলো, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments