Image description

পাবনার ঈশ্বরদীতে নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের আওতাধীন মুলাডুলি বাণিজ্যিক খামারে উন্নয়ন প্রকল্পের অজুহাতে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ৩ হাজারেরও বেশি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার নিলাম বিজ্ঞপ্তি বা বনবিভাগের অনুমোদন ছাড়াই এসব মূল্যবান গাছ সাবাড় করায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর পানাসি সেচ প্রকল্পের আওতায় ‘ভ্যালি ইরিগেশন’ নামক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য খামারের সরদারপাড়া থেকে ১০ নম্বর সেক্টর পর্যন্ত ক্যানাল খনন করা হচ্ছে। এই ক্যানালের দুই পাশে থাকা বহু বছরের পুরোনো মেহগনি, শিশু, খয়ের, রেন্টি কড়াই ও খেজুর গাছসহ প্রায় ৩ হাজারের অধিক গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা হয়েছে।

সরকারি বিধি অনুযায়ী, সরকারি কোনো গাছ কাটতে হলে প্রথমে বনবিভাগ থেকে তার মূল্য নির্ধারণ করতে হয় এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে তা বিক্রি করতে হয়। কিন্তু মুলাডুলি খামারের ক্ষেত্রে এসব আইনি প্রক্রিয়ার কোনোটিই অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে মুলাডুলি খামারের ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম আমিন গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “কেটে ফেলা গাছগুলোর কিছু অংশ নর্থবেঙ্গল সুগার মিলে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য পাঠানো হয়েছে। ভ্যালি ইরিগেশন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশ ও মিল উভয়ই উপকৃত হবে, তাই প্রকল্পের স্বার্থেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” তবে নিলাম ছাড়া এভাবে গাছ কাটার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হামিদ ও হাসানুর রহমান জানান, উন্নয়নের জন্য গাছ কাটার প্রয়োজন হলে তা আইন মেনে টেন্ডারের মাধ্যমে করা যেত। কিন্তু এখানে কোনো নিয়ম না মেনে হাজার হাজার গাছ কেটে খামারের প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করা হয়েছে। এটি খামারের পরিবেশের ওপর অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে।

এদিকে, নর্থবেঙ্গল সুগার মিল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মিলের জিএম (প্রশাসন) আনিসুর রহমানের কার্যালয় তালাবদ্ধ পাওয়া যায় এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। খামারী প্রধান বাকী বিল্লাহর কার্যালয়েও তালা ঝুলতে দেখা গেছে এবং মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিএডিসি ঈশ্বরদী জোনের সহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ) সুমন চন্দ্র বর্মন এ বিষয়ে দায় এড়িয়ে জানান, তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। তবে বিএডিসি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সরকারি সম্পদ হরিলুটের এই ঘটনায় পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর