Image description

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় গত ২০ দিন ধরে এলপিজি (LPG) গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চড়া মূল্যে গ্যাস বিক্রির অভিযোগে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মাধবপুর উপজেলার পৌর শহরসহ অধিকাংশ ইউনিয়নগুলোতে রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাস প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে জ্বালানি কাঠ ও কেরোসিনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ এই সংকটে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছেন। রান্নার কাজ সচল রাখতে অনেকেই বাধ্য হয়ে পুনরায় কাঠ ও বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও খুচরা দোকান ঘুরে দেখা গেছে, আগে যেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ থাকত, সেখানে এখন বড় বড় পাইকারি দোকানেও সিলিন্ডারের হাহাকার। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সীমিত মজুত থাকা গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করছেন, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

ভুক্তভোগী গৃহিণী রিনা বেগম তার কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, “আমরা কয়েক বছর ধরে গ্যাসে রান্না করি। ঘরে তিন দিন ধরে গ্যাস নেই। বাজারে হন্যে হয়ে ঘুরেও কোথাও গ্যাস পাচ্ছি না। আর যেখানে পাচ্ছি, সেখানে দাম চাচ্ছে অনেক বেশি। সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে এত টাকা দিয়ে গ্যাস কেনা আমাদের মতো মানুষের পক্ষে অসম্ভব।”

আরেক ভুক্তভোগী কামাল মিয়া বলেন, “আগে বাজারে গেলেই গ্যাস পাওয়া যেত। এখন দোকানদাররা সরাসরি বলে দিচ্ছে গ্যাস নেই। বাড়িতে চুলা জ্বলছে না, পরিবার নিয়ে খুব বিপদে আছি।”

এদিকে এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ীরা সংকটের দায় চাপাচ্ছেন সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর ওপর। মাধবপুর বাজারের গ্যাস ব্যবসায়ী রমেশ কৈরী বলেন, “আমরা কোম্পানি থেকে চাহিদামত নিয়মিত সরবরাহ পাচ্ছি না। যার কারণে বাজারে এই শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে আমাদের কাছেও কোনো সঠিক তথ্য নেই।”

তিনি আরও জানান, সরবরাহ কম থাকার সুযোগ নিয়ে কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত দাম আদায় করছে, যা বাজারের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় কিছু মুনাফালোভী ব্যবসায়ী এই সুযোগ গ্রহণ করছে। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিচ্ছে অথবা রান্না বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাশেম বলেন, “এলপিজি গ্যাস সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। আমরা দ্রুত বাজার মনিটরিং শুরু করব। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব এবং কেউ যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করে, তবে তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দ্রুত এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মাধবপুরবাসী।

মানবকণ্ঠ/ডিআর