মেঘনায় বালু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব বন্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে প্রশাসন। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মেঘনার বালু সন্ত্রাস নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) উপজেলার নাছিরাবাদ বালুমহাল এলাকায় এক বিশাল ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রিন্স সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে যৌথবাহিনীর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, বালু উত্তোলনের নির্ধারিত চুক্তিপত্রের তোয়াক্কা না করে সীমানা অতিক্রম করে চরলাপাং মৌজায় ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এসময় হাতেনাতে বালু উত্তোলনের সরঞ্জামসহ ২টি ড্রেজার জব্দ করা হয় এবং ৪ জন ড্রেজার শ্রমিককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রিন্স সরকার অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "চুক্তিপত্রের বাইরে গিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পরিবেশ ও জানমালের ক্ষতি করার কোনো সুযোগ নেই। আইন অমান্যকারী বালু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।"
উল্লেখ্য, নবীনগর উপজেলার মেঘনা নদী বর্তমানে অবৈধ অস্ত্রের মহড়া ও বালু সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ স্থানীয়দের। নদীর তীরবর্তী চরলাপাং, মানিকনগর, সাহেবনগরসহ বেশ কিছু গ্রামে দিনরাত শতাধিক খননযন্ত্রের (ড্রেজার) গর্জনে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে হাজার হাজার একর ফসলি জমি, মসজিদ-মাদ্রাসা ও শত শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। জনস্বার্থে প্রশাসনের এই সময়োপযোগী অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments