Image description

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার হাদি ফকিরহাট এলাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তেল পরিবহন পাইপলাইন ফুটো করে তেল চুরির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে আমিরুল ইসলাম নামক এক ব্যক্তি ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে বিপিসির পাইপলাইনের ঠিক ওপর একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেন। ঘরটি ভাড়া নিয়ে অত্যন্ত গোপনে মাটির প্রায় ১২ ফুট নিচে থাকা পাইপলাইনে ছিদ্র করে দীর্ঘ দিন ধরে তেল চুরি করে আসছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে পাইপলাইনে তেলের চাপ বেড়ে যাওয়ায় লিকেজ হয়ে তেল ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। এসময় স্থানীয়দের অনেককে বোতল ভরে তেল সংগ্রহ করতে দেখা যায়।

টিনশেড ঘরের মালিক নুর জাহান জানান, তাঁর স্বামী নুরুল আবছার প্রায় মাসখানেক আগে আমিরুল ইসলামকে ঘরটি ভাড়া দিয়েছিলেন। তবে ভাড়া দেওয়ার সময় ওই ব্যক্তির কোনো স্থায়ী ঠিকানা বা পরিচয়পত্র সংরক্ষণ করা হয়নি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, অত্যন্ত সুকৌশলে ড্রিল মেশিনের সাহায্যে পাইপলাইন ফুটো করে তেল চুরি করা হচ্ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি ড্রিল মেশিনও উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন কাদের, মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস এবং বিপিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামতের কাজ চলছে।

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলা উদ্দিন কাদের বলেন, “খবর পাওয়ার পর আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিপিসির কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে তেলের সরবরাহ বন্ধ নিশ্চিত করি। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘরের মালিকের স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত ভাড়াটিয়া আমিরুল ইসলামকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

বিপিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কী পরিমাণ তেল চুরি হয়েছে এবং পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তা নিরূপণে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর