Image description

রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। তার ওপর ফুটপাত অবৈধ দখলে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার পথচারী। বিশেষ করে পুঠিয়ার বানেশ্বর হাটের ট্রাফিক মোড় থেকে সবজি ও পিঁয়াজ হাট পর্যন্ত দীর্ঘদিনের বেহাল দশা ও অবৈধ দখলদারিত্বের ফলে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এক ফুট পর্যন্ত গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত পানি ভর্তি মাছের গাড়ি ও বালুভর্তি ড্রাম ট্রাক যাতায়াতের ফলে পিচ উঠে গিয়ে রাস্তাটি কার্যত খানাখন্দের জালে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাব ও সড়কে পানি জমে থাকায় এই বেহাল দশা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

বিপত্তি বাড়িয়েছে সড়কের পাশের অবৈধ দখলদারিত্ব। ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, ভ্রাম্যমাণ হকারের স্টল ও বিভিন্ন স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনা। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মহাসড়কের ওপর দিয়েই হাঁটতে হচ্ছে, এতে দ্রুতগামী যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়ছে।

শনিবার ও মঙ্গলবার বানেশ্বর হাটের দিনে জ্যামের কবলে পড়ে নাভিশ্বাস উঠছে শিক্ষার্থী ও অফিসগামীদের। নাবিলাহ নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী জানান, "ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় আমরা বাধ্য হয়ে মেইন রাস্তা দিয়ে হাঁটি। একদিকে রাস্তার বড় বড় গর্ত, অন্যদিকে ভারী যানবাহনের চাপ—সব মিলিয়ে প্রতিদিন রাস্তা পার হতে ভয় লাগে।"

বাস ও ট্রাক চালকরা জানান, খানাখন্দের কারণে গাড়ির গতি কমাতে হয়, যা তীব্র যানজটের সৃষ্টি করে এবং গাড়ির যন্ত্রাংশও দ্রুত নষ্ট হচ্ছে।

এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, “মহাসড়কের খানাখন্দের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা ইতিমধেই ফুটপাতের বেশ কিছু জায়গা দখলমুক্ত করেছি। পথচারীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বাকি অবৈধ স্থাপনাগুলোও দ্রুত অপসারণ করা হবে। ফুটপাত পুরোপুরি উদ্ধার করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

সড়কটি দ্রুত সংস্কার এবং ফুটপাত চিরস্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

মানবকণ্ঠ/ডিআর