পৌষের বিদায় আর মাঘের আগমনকে ঘিরে চারঘাটের গ্রামীণ জনপদে বইছে উৎসবের হাওয়া। সোমবার (১২ জানুয়ারি), বাংলা সনের পৌষ মাসের শেষ দিন, আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পৌষ সংক্রান্তি’। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে চারঘাটের ঘরে ঘরে চলছে পিঠে-পুলির মহোৎসব।
সংক্রান্তির প্রধান আকর্ষণই হলো হরেক রকমের পিঠা। নতুন আমন চালের গুঁড়ো, নারিকেল আর খেজুর গুড়ের মিষ্টি গন্ধে ম-ম করছে চারঘাটের পাড়া-মহল্লা। বাড়ির আঙিনায় ধোঁয়া ওঠা চুলায় নারীরা তৈরি করছেন পাটিসাপটা, দুধপুলি, ভাপাপিঠা ও চিতইসহ বাহারি সব পিঠা। এই উৎসবে গ্রামের নারীরা একত্রিত হয়ে আনন্দময় পরিবেশে পিঠা তৈরিতে অংশ নিচ্ছেন, যা গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য ও সৌহার্দ্যপূর্ণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। শীতের সকালে শিশুদের হুল্লোড় আর কোলাহলে গ্রামগুলোতে প্রাণের স্পন্দন ফিরে এসেছে।
পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসেছে ছোট-বড় গ্রামীণ মেলা। মেলায় মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, কাঠের খেলনা, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী এবং লোকজ খাবারের দোকানে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেক এলাকায় লাঠিখেলা, হাডুডু ও বাউল গানের আসর বসেছে, যা উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এলাকার প্রবীণরা জানান, পৌষ সংক্রান্তি কেবল একটি ক্যালেন্ডার ভিত্তিক দিন নয়; এটি চারঘাট অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় এই উৎসবকে ঘিরে মহোৎসব চলত, যা আজও সাধারণ মানুষ সাধ্যমতো আঁকড়ে ধরে রেখেছে। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে পিঠা আদান-প্রদান ও আপ্যায়নের মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।
সচেতন মহলের মতে, আধুনিকতার প্রভাবে বিনোদনের মাধ্যম বদলালেও গ্রামীণ জীবনে পৌষ সংক্রান্তির আবেদন আজও ম্লান হয়নি। শীতের সকালে নতুন চালের পিঠার স্বাদ আর শেকড়ের টান মানুষকে যান্ত্রিকতা থেকে দূরে নিয়ে এক অপার্থিব সুখ এনে দেয়। সব মিলিয়ে চারঘাটে পৌষ সংক্রান্তি যেন গ্রাম বাংলার হারানো ছন্দ ও ঐতিহ্যকে নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments