Image description

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অবৈধ সম্পদ স্থানান্তর এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও তার স্ত্রী ডা. জোবাঈদা শাহনূর রশীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মোক্তার হোসেন চার্জশিট অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৬ জুলাই উপ-পরিচালক খায়রুল হক বাদী হয়ে এই দম্পতির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়।

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল ২ কোটি ২১ লাখ ৯৮ হাজার টাকার সম্পদের হিসাব জমা দিলেও অনুসন্ধানে ৩ কোটি ১৩ লাখ ১১ হাজার টাকার সম্পদের প্রমাণ মেলে। এখানে তিনি ৯১ লাখ ১৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া তার পারিবারিক ব্যয় ও অন্যান্য হিসাব মিলিয়ে মোট ৬ কোটি ৩৫ লাখ ৪ হাজার ৪৯৩ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎস দেখাতে পারেননি তিনি।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, আবু হেনা মোস্তফা কামাল তার ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থকে বৈধতা দিতে প্রথমে মায়ের দান হিসেবে এবং পরবর্তীতে তা থেকে স্ত্রীকে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা দান হিসেবে আয়কর নথিতে প্রদর্শন করেন। এই অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে তিনি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ করেছেন বলে দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রকৌশলীর স্ত্রী ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রভাষক ডা. জোবাঈদা শাহনূর রশীদের নামে ২ কোটি ৭৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। তিনিও ৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং স্বামীর অবৈধ অর্থ বৈধ করার প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছেন।

সওজ সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে খানাখন্দ সংস্কারে গাফিলতি এবং ৬ কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ তছরুপের অভিযোগে তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তাকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিতর্কিত এই কর্মকর্তা বর্তমানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ‘ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্পে’র অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন।

দুদক জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর