Image description

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সরকারি আইন অমান্য করে দুধকুমার নদের রক্ষা বাঁধ কেটে অবৈধভাবে বালু বিক্রির মহোৎসব চলছে। বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের শিমুলতলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ-এর খননকৃত বালু দিয়ে তৈরি এই বাঁধটি ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে কেটে সাবাড় করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে নদের ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে থাকা শিমুলতলা ও ফান্দেরচর এলাকা নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের শিমুলতলা এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধের বালু কেটে দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করছেন স্থানীয় জাকারিয়া হোসেন এবং আমিনুল ইসলাম। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শতাধিক ট্রলি, ট্রাক্টর ও ট্রাকে করে বালু সরবরাহ করা হচ্ছে। গাড়ি প্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা আদায় করছে এই চক্রটি। বালুর হিসাব রাখার জন্য নদের পাড়ে তাবু খাটিয়ে লোক বসানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী আবুল কাশেম ও আঃ করিম জানান, অভিযুক্ত জাকারিয়া হোসেন নিজেকে বেরুবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা পরিচয় দিয়ে দাপট খাটিয়ে এই অবৈধ কারবার চালাচ্ছেন। প্রতিবাদ করলে তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতার ভয় দেখান। প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাকারিয়া হোসেন দম্ভোক্তি করে বলেন, “আমি বেরুবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা। এখন সময় আমাদের, ক্ষমতাও আমাদের। আমরাই তো টাকা উপার্জন করবো। কাউকে গোনার বা দেখার সময় নাই।”

বল্লভেরখাষ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর জামাল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “দুধকুমার নদের ভাঙনে বল্লভেরখাষ ইউনিয়ন এমনিতেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এরপর যদি রক্ষা বাঁধ কেটে বালু বিক্রি করা হয়, তবে শিমুলতলা ও ফান্দেরচর এলাকা আগামী বর্ষায় নদে বিলীন হয়ে যাবে।”

এ বিষয়ে বল্লভেরখাষ ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, এসি ল্যান্ডের নির্দেশে বালু কাটা বন্ধের জন্য নিষেধ করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন জাহান লুনা বলেন, “অবৈধভাবে নদীর বাঁধ কেটে বালু বিক্রিকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। তারা জানান, সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অস্তিত্ব রক্ষায় স্থানীয় শিমুলতলা ও ফান্দেরচরবাসী অবিলম্বে এই অবৈধ বালু লুট বন্ধ এবং জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর