রংপুরে রেকটিফাইড স্পিরিট পানে অসুস্থ হয়ে সাতজনের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ার মধ্যেই গাজীপুর মহানগরীতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ রেকটিফাইড স্পিরিট জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানাধীন ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কুদাব এলাকায় অবস্থিত ‘সেবা হুমিও ল্যাবরেটরি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২১০০ লিটার রেকটিফাইড স্পিরিট জব্দ করা হয়।
ডিএনসি জানায়, অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবরেটরি ও গুদাম থেকে ড্রাম ও বোতলজাত বিপুল পরিমাণ স্পিরিট উদ্ধার করা হয়। এ সময় জড়িত থাকার অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম ও কথিত হোমিও চিকিৎসক সাদিকুজ্জামানকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে গাজীপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এমদাদুল ইসলাম মিঠুন বলেন, জব্দ করা রেকটিফাইড স্পিরিটের বিপরীতে কোনো ধরনের বৈধ লাইসেন্স বা অনুমোদন পাওয়া যায়নি। ‘সেবা হুমিও ল্যাবরেটরি’ নামের প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে এসব স্পিরিট মজুদ করে সারাদেশে বিক্রি করে আসছিল এমন তথ্য আমাদের কাছে ছিল।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের পর ডিএনসির একটি টিম ক্রেতা সেজে অর্ডার দেয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার পর দুইজন বিক্রেতা পণ্য ডেলিভারি দিতে এলে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ল্যাবরেটরি ও গুদামে অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ রেকটিফাইড স্পিরিট জব্দ করা হয়।
ডিএনসি কর্মকর্তা বলেন, রেকটিফাইড স্পিরিট মজুদ ও বিক্রির ক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পূবাইল থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
এদিকে পূবাইল থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) নাজমুল হক বলেন, রেকটিফাইড স্পিরিট বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হলেও যে পরিমাণ জব্দ করা হয়েছে তা স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় অনেক বেশি। অভিযুক্তরা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। ডিএনসি কর্তৃক দেওয়া এজাহার রুজু করে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।




Comments