Image description

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে ব্যাপক আকারে আলু চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় মোট ১ হাজার ৯২৫ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো কৃষি উপকরণ পাওয়ায় কৃষকরা ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে লাগানো আলু ক্ষেত সবুজে ভরে উঠেছে। কোথাও কোথাও গাছে ফুল আসতে শুরু করেছে। কৃষকদের ব্যস্ততা বেড়েছে আগাছা দমন, সেচ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনী জানান, “চলতি মৌসুমে দুর্গাপুরে ১ হাজার ৯২৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে। উন্নত জাতের বীজ, সার ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে এবার আলুর ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও মাঠ পর্যায়ে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ রোধে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে কীটনাশক ব্যবহারে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
কৃষক মোকাররম আলি (৪০), উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের একজন আলু চাষি বলেন, “এ বছর দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত ভালো আছে, গাছের অবস্থাও সন্তোষজনক। যদি বাজারদর ভালো পাই, তাহলে আলু চাষে আমাদের লাভ হবে।”
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আলু চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও সঠিক পরিচর্যা ও ন্যায্যমূল্য পেলে এটি লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সংরক্ষণ সুবিধা ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত না হলে অনেক সময় কৃষকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ফলন ভালো হলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় দুর্গাপুরের আলু সরবরাহ করা হবে।
সবমিলিয়ে, দুর্গাপুরে আলু চাষ এ বছর কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।