নেত্রকোণায় ৪০ গ্রামে বিশুদ্ধ পানির সংকট, স্থায়ী সমাধান চায় পাহাড়ি জনপদ
নেত্রকোণার সীমান্তবর্তী দুই পাহাড়ি উপজেলা দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার অন্তত ৪০টি গ্রামে তীব্র বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এসব গ্রামে বসবাসরত প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বছরের পর বছর নিরাপদ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পাহাড়ি ছড়া (নালা), খাল কিংবা টিলার নিচে তিন চাকায় তৈরি অগভীর কূপের ঘোলা ও দূষিত পানিই এখন তাদের একমাত্র ভরসা।
জানা গেছে, কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা, খারনৈ ও রংছাতি ইউনিয়ন এবং দুর্গাপুর উপজেলার কোল্লাগড়া ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে এই সংকট সবচেয়ে প্রকট। এসব এলাকায় গারো ও হাজং সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ি পানির প্রাকৃতিক উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা জানান, অনেককে এক থেকে দুই কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এতে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও ক্রমাগত বাড়ছে। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই জনপদে বিশুদ্ধ পানির স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা ইশতেহারে পানি সংকট সমাধানের বড় বড় আশ্বাস দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আর কেউ খবর নেন না। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও একই ধরনের আশ্বাস দেওয়া হলেও পাহাড়ি জনপদ এবার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায়।
এ বিষয়ে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নায়েব আলী খাঁন বলেন, “নেত্রকোণার ১০টি উপজেলার পানি সমস্যা সমাধানে ১ হাজার ৩২টি গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকার মানুষের জন্য আলাদা প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় পানির উৎস স্থাপন কিছুটা জটিল হলেও সরকারিভাবে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিভাগের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন ও কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয়দের আশা, এবার আর শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, বাস্তব উদ্যোগের মাধ্যমেই তাদের দীর্ঘদিনের তৃষ্ণা মিটবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments