Image description

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে প্রার্থীদের প্রচারণা কার্যক্রম নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বাড়ছে কৌতূহল ও আলোচনা। প্রতীক বরাদ্দের প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পাঁচজন প্রার্থীকে মাঠপর্যায়ে কোনো ধরনের প্রচারণায় দেখা যায়নি। ফলে সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ তাদের সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা পাচ্ছেন না।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মোট ১৪টি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। 

প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে একজনের মনোনয়ন বাতিল হলেও আপিল বিভাগের মাধ্যমে তা বৈধ হয়। পরবর্তীতে ১১ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। সর্বশেষ ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

মাদারীপুর-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত ১৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১০২টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৪ হাজার ২৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৪১ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৪৬ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন।

ভোটারদের মন জয় করতে মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান (জাহাজ), সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী (ফুটবল), ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা হানজালা (রিকশা) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আকরাম হোসেন (হাতপাখা)।

কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা পথসভা, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রচারণায় তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য, নারী কর্মী ও সমর্থকদের সক্রিয় উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের যোগদান নির্বাচনী তৎপরতায় নতুন গতি যোগ করছে।

অন্যদিকে, একসময় জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত শিবচরে জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রতীক পাওয়ার পর থেকেও সরাসরি মাঠে তেমন সক্রিয়তা দেখাননি। একইভাবে আনারস, ট্রাক, কাস্তে (কাঁচি) ও হরিণ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা প্রকৌশলী ইমরানসহ মোট পাঁচজন প্রার্থী এখনও মাঠে অনুপস্থিত রয়েছেন।

যদিও তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিফলেট ও প্রচারণামূলক পোস্ট প্রকাশ করছেন, তবে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় তাদের পরিচিতি তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন মূলত ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দলবদল ও অভ্যন্তরীণ সমঝোতার গুঞ্জন সত্য হলে নির্বাচনের গতিপথ একদিকে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ বিষয়ে একাধিক ভোটার বলেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। তবে অনেক সময় অর্থের কাছে নীতি হার মানে।আবার কেউ কেউ মনে করেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের দিকেই শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের সমর্থন যাবে।

বর্তমানে ভোটারদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে মাঠে অনুপস্থিত পাঁচ প্রার্থীর ভূমিকা। তারা আদৌ সরাসরি ভোট চাইতে নামবেন কি না, কিংবা ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দেবেন কি না এ নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। অনেক ভোটারই স্বীকার করছেন, তারা এসব প্রার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না।

আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শেষ দিন। এর আগে যদি অনুপস্থিত প্রার্থীরা অন্তত একটি জনসভা বা গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের সামনে নিজেদের তুলে ধরতে পারেন, তবে ভোটারদের কৌতূহলের কিছুটা হলেও জবাব মিলতে পারে এমন প্রত্যাশাই এখন শিবচরবাসীর।