নওগাঁ-৩
খিচুরি খাইয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দীকী জনির (কলস প্রতীক) কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু হিন্দু ভোটারদের খিচুরি খাইয়ে প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বদলগাছী সদর ইউনিয়নের গোড়শাহী মোড়ে কলস মার্কার নির্বাচনী ক্যাম্পে এই ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে ওই এলাকার নির্দিষ্ট কিছু পাড়ায় দলবদ্ধভাবে রান্না করা খিচুরি বিতরণ করা হচ্ছে। খাবার পরিবেশনের সময় সরাসরি কলস প্রতীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।
খিচুরি খেতে আসা বিশ্বজিৎ নামে এক ভোটার বলেন, “এটি কলস মার্কার খিচুরি। খাবার দেওয়ার সময় আমাদের কাছে ভোট চাওয়া হয়েছে।”
সুখেন নামে আরেক ভোটার জানান, “আমি মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন জনির লোকজনে ডেকে এনে খিচুরি খাওয়ালো এবং বলল—ভোটের দিন যেন কলস মার্কায় ভোট দেই।”
এ বিষয়ে খিচুরি বিতরণে জড়িত বলে অভিযুক্ত বায়োজিদ বলেন, “কলস মার্কার পক্ষে খাওয়া-দাওয়া হয়েছে। তবে আজকের পর আর খাওয়ানো হবে না।” নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটারদের কোনো প্রকার অর্থ, উপহার বা খাবার দিয়ে প্রভাবিত করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ফরিদুল করিম বলেন, “ভোটারদের খাবার খাইয়ে ভোট চাওয়া স্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্বতন্ত্র প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দীকী জনির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, “ভোটারদের খাবার খাওয়ানোর বিষয়টি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। আমরা অভিযোগটি খতিয়ে দেখছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments