ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি রায়হান জামিল এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। স্থানীয় মানুষের উন্নয়নবঞ্চনা ও কষ্টের প্রতীক হিসেবে সদরপুরের আকোটেরচর এলাকায় একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোর নিচে দাঁড়িয়ে তিনি তাঁর এই নির্বাচনী অঙ্গীকারনামা উপস্থাপন করেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে রায়হান জামিল বলেন, “রাজনীতি হবে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের পথ, ক্ষমতার অপব্যবহারের নয়। আমি নির্বাচিত হলে প্রচলিত রাজনীতির ধারা বদলে দেব।”
মুফতি রায়হান জামিলের ঘোষিত ইশতেহারের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো—নির্বাচিত হলে তিনি তাঁর পুরো সরকারি বেতন দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করবেন। এছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি হিসাব নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ এবং জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগের জন্য ২৪ ঘণ্টা ‘হটলাইন’ চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
ইশতেহারের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকারগুলো হলো:
বেকার যুবকদের জন্য বিনামূল্যে কম্পিউটার ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ।
ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য বিশেষ ভাতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য স্থায়ী আবাসন ও গোপালপুর-মৈনুট নৌরুটে ফেরি চালু।
দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের জন্য ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করা।
হিজড়া ও বেদে সম্প্রদায়ের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান।
কৃষকদের জন্য বিনা সুদে ঋণ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার।
চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি।
ব্যতিক্রমী এই ইশতেহার ঘোষণা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানান, একজন প্রার্থীর জরাজীর্ণ সাঁকোর নিচে দাঁড়িয়ে বেতন দান ও স্বচ্ছতার এমন সাহসী প্রতিশ্রুতি আগে কখনো দেখেননি তারা।
মুফতি রায়হান জামিল আরও বলেন, “আমি ফরিদপুর-৪ আসনকে দুর্নীতিমুক্ত ও একটি আধুনিক জনপদে রূপান্তর করতে চাই, যেখানে এমপির কার্যালয় হবে সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থল।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments