Image description

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানাধীন খিলগাঁও (দক্ষিণপাড়া) এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃতার বাবা থানায় অপমৃত্যুর অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহত সাদিয়া (১৯) ডেমরপাড়া এলাকার মো. ফারুক হোসেনের মেয়ে। প্রায় সাত মাস আগে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয় একই এলাকার ফয়েজ উদ্দিন (২৪) এর সঙ্গে।

মৃতার বাবা মো. ফারুক হোসেন লিখিত আবেদনে জানান, মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে তিনি মেঘডুবি এলাকায় ঝালমুড়ি বিক্রি করছিলেন। এ সময় তার জামাতা ফয়েজ উদ্দিন ফোন করে জানান, সাদিয়া অসুস্থ এবং কোনো কথা বলছে না। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বাসায় গিয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান এবং মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথমে সাদিয়াকে করমতলা খ্রিষ্টান হাসপাতালে নেওয়া হয় সেখান থেকে টঙ্গীর শিলমুন হাসপাতাল এবং পরে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতার পরিবারের ভাষ্য, স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পারিবারিক কলহের জেরে অভিমান করে মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সাদিয়া স্বামীর বাড়ির গোসলখানায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহননের চেষ্টা করে। তবে এ দাবি মানতে নারাজ সাদিয়ার স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন সাদিয়া।

সাদিয়ার বোনের স্বামী আল-আমিন সরকার বলেন,মানসিক নির্যাতনের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চাই।

পূবাইল থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) নাজমুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে মরদেহে দৃশ্যমান কোনো গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর রাতে স্থানীয় কিছু যুবক সাদিয়ার স্বামী ফয়েজ উদ্দিনকে আটক করে মারধরের পর সদর থানায় সোপর্দ করে। পরে তাকে পূবাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মরদেহ বর্তমানে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।আজ বুধবার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।