Image description

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি অবৈধ গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ মোতাহের নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে একই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে আবু তাহের ও আব্দুর রহিম নামে আরও দুজন মারা যান। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কলাতলী বাইপাস সড়কের ওই এলপিজি গ্যাস পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত (লিকেজ) হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এতে পাম্পে কর্মরত অন্তত ১০ জন শ্রমিক ও কর্মচারী দগ্ধ হন।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শান্তনু ঘোষ জানান, দগ্ধদের শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ায় কয়েকজনের অবস্থা শুরু থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছিল।

এদিকে, বিস্ফোরণ হওয়া গ্যাস পাম্পটির কোনো বৈধতা ছিল না বলে তদন্তে উঠে এসেছে। জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি), পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি এবং বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স—কোনোটিই ছিল না পাম্পটির। এ ঘটনায় গত রোববার রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে বিস্ফোরণ অধিদপ্তর।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন জানান, "বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় পাম্পের মালিক রামু উপজেলার নুরুল আলম ওরফে এন আলমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক ও মামলার বাদী এস.এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, নিয়মবহির্ভূত ও কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই পাম্পটি চালানো হচ্ছিল, যা জননিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি।

স্থানীয় বাসিন্দারা আবাসিক ও পর্যটন এলাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ স্থাপনা পরিচালনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নিহতদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর