কলাপাড়ায় বিএনপির একশ্রেণির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মাদক কারবারির অভিযোগ
পটুয়াখালীর পর্যটন শহর কুয়াকাটা, পায়রা সমুদ্র বন্দর ও কলাপাড়া পৌর শহরসহ গ্রামীণ জনপদে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবার কারবার। অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সহযোগী সংগঠনের বেশ কিছু নেতাকর্মী সরাসরি এই মাদক বাণিজ্যের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি ইয়াবা সেবন, সরবরাহ ও বুকিং সংক্রান্ত একাধিক স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ইয়াবা সংগ্রহের বুকিং, ডেলিভারি ও সেবনের দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে। এতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবক মহলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাদকাসক্ত হয়ে অনেক নেতাকর্মী গরু চুরি, নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও এমনকি হত্যার মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও অভিযুক্তদের অনেককে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তবে পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইয়াবার ব্যবসায় মুনাফা অস্বাভাবিক। প্রতি পিস ইয়াবা মাত্র ৫০ টাকা দরে হোলসেলে কিনে খুচরা বিক্রেতা ও আসক্তদের কাছে তা ১৮০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। এই লোভনীয় কারবারে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র থেকে শুরু করে একশ্রেণির নারীও জড়িয়ে পড়ছে।
সম্প্রতি চম্পাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ইমতাজুর রহমান কোয়েল মৃধার ইয়াবা বুকিং সংক্রান্ত চ্যাটিং ফাঁস হয়। এছাড়া বালিয়াতলী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুরাদ হোসেন ইয়াবাসহ আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক মাসের কারাদণ্ড পেয়েছেন। ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সম্পাদক রেদওয়ানের ভাই ও ভাইপোর ইয়াবা সেবনের ভিডিও ফাঁসের পর ইয়াবা ব্যবসায় ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি দেলোয়ার মৃধার নামও উঠে আসে। গত সোমবার কুয়াকাটা পৌর মৎস্যজীবী দলের সম্পাদক আবু সালেহ’র হোটেল কক্ষে ইয়াবা সেবনের দৃশ্য ভাইরাল হলে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ূন শিকদার বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মাদকের বিষয়ে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল। কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা আসক্তের দলে থাকার প্রয়োজন নেই। আমরা অভিযুক্তদের বহিষ্কারের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের গ্রেফতারের অনুরোধ জানিয়েছি। এমনকি আইনজীবীদেরও বলেছি যাতে এই অপরাধীরা সহজে জামিন না পায়।”
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কলাপাড়া অফিসের পরিদর্শক শাহিনুল কবির জানান, গত ৬ মাসে ৩৩৬টি অভিযানে ১১০ জনের বিরুদ্ধে ১০৯টি মামলা করা হয়েছে এবং ১০০০ পিস ইয়াবাসহ প্রচুর গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হামিমুর রশিদ জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, অপরাধী হিসেবেই আইনের আওতায় আনবো।”
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা সভায় মাদকের বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় এমপির কঠোর নির্দেশনা রয়েছে যে, মাদকের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় আমাদের কাছে মুখ্য নয়। অভিযান অব্যাহত আছে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments