Image description

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণ ও প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালুসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন কালু, বিএনপি নেতা খাইরুল ইসলাম ও রাসেল আহমেদকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে আলফাজ উদ্দিন কালুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন সেপুকে সরিয়ে সদস্য সারগিদুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালুর সমর্থকরা এই নিয়োগকে ‘অবৈধ’ দাবি করে আসছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, সারগিদুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়ে সরকারি ত্রাণ ও ভিজিএফের চাল নিজের লোকজনের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করছেন। আজ মঙ্গলবার চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দুপক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি চাল বিতরণ শুরু করার আগেই আলফাজ উদ্দিন কালু তাঁর লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ ইউনিয়ন পরিষদ দখল করতে আসেন। খবর পেয়ে আমার লোকজন পরিষদ রক্ষায় এগিয়ে এলে সংঘর্ষ বাধে।”

অন্যদিকে আলফাজ উদ্দিন কালুর সমর্থকরা দাবি করেন, তাঁরা অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী পৌঁছালে দুপক্ষের লোকজন পালিয়ে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর