স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় জামালপুরে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরে স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের লোমহর্ষক ও বর্বরোচিত ঘটনায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: মো. ফারুক হোসেন (২৬), মুনছুর আলী (৩০) ও ফেরদৌস হোসেন (২৭)। তারা সবাই জামালপুর সদর উপজেলার পাকুল্যা মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। মামলার অপর আসামি জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
২০২৩ সালের ১৯ জুলাই রাতে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী একজন ব্রয়লার মুরগি ব্যবসায়ী। ওইদিন ব্যবসায়িক কাজ শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্বামী-স্ত্রী সদর উপজেলার পাকুল্লা এলাকা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে আসামিরা তাদের গতিরোধ করে এবং তাদের সম্পর্ক নিয়ে আজেবাজে মন্তব্য শুরু করে। তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিলেও আসামিরা তা বিশ্বাস করতে অস্বীকার করে। একপর্যায়ে তারা স্বামীকে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং তার সামনেই স্ত্রীকে পাশবিকভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।
এই ঘটনার পরদিন ২০ জুলাই ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে জামালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই পলাতক ছিলেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই আদালত এই সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই আদেশের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছাবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments