লালপুরে কাবিটা-কাবিখা প্রকল্পে কাজ না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ
নাটোরের লালপুরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প এলাকায় এক কোদাল মাটি না পড়লেও ভুয়া মাস্টাররোলের মাধ্যমে অধিকাংশ প্রকল্পের বরাদ্দকৃত কোটি কোটি টাকা ও খাদ্যশস্য উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করলেও সরেজমিনে এর কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাবিটা কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি প্রকল্পের বিপরীতে ১ কোটি ৬০ লাখ ৬০ হাজার ২৮১ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া কাবিখা কর্মসূচির আওতায় চাল ও গমের সমপরিমাণ আরও ২৭টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কাবিটা কর্মসূচির আওতায় বিলমাড়িয়া, চংধুপইল, দুয়ারিয়া, আড়বাব, ওয়ালিয়া ও ঈশ্বরদী ইউনিয়নে রাস্তা সংস্কারের ৮টি প্রকল্পে ৩২ লাখ ১২ হাজার ৫৬ টাকা বরাদ্দ ছিল। কাজ শুরু না করেই এই অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে কাবিখা প্রকল্পের প্রায় ৪১ লাখ টাকার গম ও চাল হরিলুট করা হয়েছে।
মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ঈশ্বরদী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাজেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বরাদ্দ হওয়া চালের বিপরীতে রাস্তার কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। এ বিষয়ে সাজেদুল ইসলাম বলেন, “পিআইও অফিসে ডেকে নিয়ে আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ডিও লেটার বা কোনো বরাদ্দ আমাকে দেওয়া হয়নি। রাস্তা যেমন ছিল তেমনই আছে।” একই অভিযোগ করেন ওয়ালিয়া ইউপি সদস্য জাকির হোসেন। তিনি জানান, তাদের নামমাত্র সভাপতি করে অফিসের লোকজন সব নিয়ন্ত্রণ করেন, টাকা-পয়সা তারা চোখেও দেখেন না।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাসুদুর রহমান দাবি করেন, “কাজ সন্তোষজনকভাবে শেষ হয়েছে এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করেই বিল দেওয়া হয়েছে।” যদিও কাজ শেষ হওয়া একটি প্রকল্পের নামও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেননি।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, “কাজ না করে বিল উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। প্রকল্পের কাজ যাচাই করেই বিল দেওয়া হয়েছে। তবে কোথাও যদি সুনির্দিষ্ট অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments