Image description

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়ার মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়লেও কোথাও কোনো ধীরগতি বা যানজটের সৃষ্টি হয়নি। স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করায় এবারের ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বগুড়ার বনানী থেকে শিবগঞ্জের মোকামতলা পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার আগে মোকামতলা, চণ্ডিহারা ও মহাস্থান বন্দর এলাকায় প্রতিবছর ঈদে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। তবে এবার চার লেন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়া এবং জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গেছে। যানজটের শঙ্কা থাকা স্থানগুলোতে ওভারপাস নির্মাণ করায় বাস ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত গতিতে পার হয়ে যাচ্ছে।

মোকামতলা বন্দরে কথা হয় এসআর পরিবহনের যাত্রী শাহাদাত হোসেনের সাথে। তিনি জানান, ‘ঢাকায় চাকরি করি। আগে ঈদ মৌসুমে ঢাকা থেকে মোকামতলা ফিরতে ৭-৮ ঘণ্টা লাগত। কিন্তু আজ কোনো যানজট ছাড়াই মাত্র সাড়ে ৪ ঘণ্টায় গাবতলী থেকে পৌঁছাতে পেরেছি। রাস্তায় কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি।’

বিসমিল্লাহ পরিবহনের চালক রবিউল ইসলাম জানান, ‘মহাসড়কের অবস্থা এখন বেশ ভালো। যে গতিতে গাড়ি চলছে, আশা করছি ঈদের বাকি দুদিনেও যানজটের সৃষ্টি হবে না।’

মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সারওয়ার পারভেজ জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশে মহাসড়কে যানজট নিরসন ও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। শুধুমাত্র যানবাহন চলাচলই নয়, যাত্রীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।

কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ওসি হাফিজার রহমান জানান, যানজট এড়াতে রাস্তার পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে ইউটার্নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া যেকোনো দুর্ঘটনায় দ্রুত সেবা দিতে মহাসড়কে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর