Image description

মুন্সীগঞ্জে বিগত এক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে বৃষ্টিতে আলু জমিতে পানি জমতে শুরু করেছে। কৃষক আলু জমি হতে নালা কেটে পানি নিস্কাশনের চেষ্টা করছেন।  

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সর্বশেষ বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে কালবৈশাখী ঝড়সহ বৃস্টিপাত হলে জেলার বিভিন্ন কৃষি জমিতে পানি জমতে শুরু করেছে। এতে জমি ভিজে কাঁদা হয়ে থাকায় বাধ্য হয়ে কৃষক জমি হতে আলু উত্তোলন করতে পারছেন না। মাটি ভিজে থাকায় আলু উঠানোর এই পূর্ন মৌসুমে এখন জমিগুলো জুড়ে শুধু নিরবতা। 

বৃহস্পতিবার সকালে টঙ্গিবাড়ী ও সদর উপজেলার বেশ কিছু বিল ঘুরে দেখা গেছে যেখানে বুধবার বিকালেও হাজারো শ্রমিকের কর্মচঞ্চলতায় মুখরিত ছিলো বিলগুলো সেখানে বৃহস্পতিবার সকাল হতে বিলে কোন শ্রমিক নেই।

টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পাঁচগাওঁ, মান্দ্রা, ধীপুর, আউটশাহী, মুটুকপুর বিলগুলো ঘুরে বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায় কৃষক কোঁদাল নিয়ে জমির আইল কেটে পানি নিস্কাশন করছেন। অনেকে আবার বুধবার রাতেই বৃষ্টির মধ্যেই আইল কেটে দিয়েছেন পানি নামার জন্য।

মুন্সীগঞ্জের ছয়টি উপজেলায়  আলু উত্তোলনের ব্যস্ত সময় পার করছিলেন কৃষকরা। এ বছর মাঠে ভালো ফলন হয়েছে বলে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে। জমিতে আলু ১৫ টাকা কেজি ( ৬শত) টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এ দামে বিক্রি হলে কৃষকের মূলধন উঠলেও লাভবান হবেন না। তবে তারা এ বছর আলুর দাম বাড়ার সম্ভবনা দেখছেন। তাই জমি হতে আলু তুলে কেউ হিমাগারে কেউ বাড়িতে, কেউবা আবার জমিতেই আলু সংরক্ষন করছেন। তবে বৃষ্টি তাদের দুশ্চিন্তা অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে কৃষক যখন আলু ঘরে তুলতে মরিয়া তখন এই বৃষ্টিপাত তাদের চরম হতাশার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে আলু চাষি পারভেজ বলেন, এ বছর আলুর ফলন ভালো হয়েছে। গত বছর আলু চাষ করে ৫০ লক্ষ টাকা লোকসান হয়েছে। অনেক আলু হিমাগারে ফেলে রেখে আসছি। এ বছর জমিতে গত বছরের তুলনায় আলুর দাম বেশি। আশা করতেছি আরো দাম বাড়বে। সরকার যদি আলু বিদেশে বিক্রি করতো তাহলে আমরা নায্য দামে আলু বিক্রি করতে পারতাম।

অপর চাষি জুয়েল বলেন, জমি হতে এখোন পূনদমে আলু তুলতেছি। কয়েকদিন আগে ঈদ হওয়ায় শ্রমিকের সংকট ছিলো। এখন যখন আলু তুলতে  শুরু করছি তখন বৃষ্টির কারনে আমরা জমি হতে ঠিকমতো আলু তুলতে পারছিনা। বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমতে শুরু করছে। বৃষ্টি যদি চলতে থাকে তাহলে জমিতেই আলু পচেঁ  নষ্ট হবে তোলা যাবেনা। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে এই জেলায় ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে।  যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সামান্য বেশি। এ জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে নয় লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৮ দশমিক ২৫ টন।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শষ্য) শান্তনা রানি বলেন, মুন্সীগঞ্জে এ পর্যন্ত ২৪ হাজার হেক্টর জমির আলু উত্তোলন করা হয়েছে। এখনো ১০ হাজার হেক্টর জমির আলু উত্তোলন বাকি রয়েছে। আশা করছি এক সপ্তহের মধ্যে সমস্ত আলু উত্তোলন করা হয়ে যাবে। বর্তমানে যে বৃষ্টিপাত হচ্ছে তাতে যদি জমিতে পানি জমে থাকে তাহলে পানি নামার জন্য নালা কেটে দিতে হবে। যেহেতু দিন দিন বৃস্টিপাতের পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্রুত আলু উত্তোলন করে ফেলতে হবে।