Image description

ঈদের পরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আশা করছেন দেশের মানুষ। তাই ঈদের ছুটিতে মাঠে নেমে পড়েছেন আগ্রহী প্রার্থীরা। তাঁরা ঈদুল ফিতরের ছুটিতে এলাকায় প্রাথমিক গণসংযোগ সেরে নিয়েছেন। বিশেষ করে বিএনপির নেতাদের পক্ষ থেকে ভূরিভোজ, মহড়া ছিল চোখে পড়ার মতো।

সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায়ও নির্বাচনের ঢেউ লেগেছে এই ঈদে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার ঈদ নিজ নিজ গ্রামে ছুটেছেন কর্মজীবী মানুষ। আর নানাভাবে তাঁদের কাছে যাওয়া, নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

তাই এবার ঈদ-রাজনীতিও তুলনামূলক বেশি জমজমাট। রমজানজুড়েই ছিল ইফতারকেন্দ্রিক কর্মসূচি। বাড়তি মাত্রা যোগ করছে বিভিন্ন ধরনের ‘ঈদ শুভেচ্ছা’। শুভেচ্ছা বিনিময়ের নামে গণসংযোগও চালিয়েছেন অনেকে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ উৎসবে যোগ হচ্ছে নির্বাচনী আমেজ।

ঈদের আগে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় নির্বাচনে লড়তে ইচ্ছুকদের প্রায় সবাই রঙিন পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড, ফেস্টুন দিয়ে সংসদীয় আসনের মানুষদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অনেকে আবার ঈদ শুভেচ্ছা হিসেবে বিতরণ করছেন সেমাই-চিনি, জামা-কাপড়সহ বিভিন্ন ঈদ উপহার। আর আছে গরিবদের জাকাত দেওয়া। প্রতি রোজা বা ঈদে এসব কাজ করেন রাজনৈতিক নেতারা। তবে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে এবার এই প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।

আনোয়ারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচারে এগিয়ে আছেন হাইলধরের শিল্পপতি মোহাম্মদ শাহেদ। ঈদে শুভেচ্ছা জানিয়ে উপজেলা জুড়ে ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন সম্ভাব্য এই প্রার্থী। আসন্ন আনোয়ারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঈদে সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেছেন সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ শাহেদ। সম্প্রতি উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও এলাকায় আগুনে পুড়ে যাওয়া প্রতিবন্দ্বি পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

​বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিল্পপতি মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, 'আনোয়ারা উপজেলার প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং অবহেলিত জনপদগুলোর সুষম উন্নয়নই আমার মূল লক্ষ্য। আমি আপনাদের সন্তান হিসেবে পাশে থাকতে চাই। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একটি আধুনিক, মাদকমুক্ত ও কর্মসংস্থানমুখী উপজেলা গড়ে তুলতে আপনাদের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি।'

এছাড়াও এ উপজেলায় আলোচনায় আছেন, বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সরব হুমায়ুন কবির আনছার, মোহাম্মদ শাহজাহান, হাছান চৌধুরী ও এম. মনজুর উদ্দীন চৌধুরী। তারাও বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে দোয়া প্রার্থনা এবং সামাজিক নানা অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।

নির্বাচনের হাওয়া থেকে বাদ যায়নি ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলা কর্ণফুলীও। নির্বাচনকে সামনে রেখে ঈদে বড়উঠান ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদুল ইসলাম শামীম নিজ নিজ গ্রামে ছুটেছেন মানুষের মন জয় করতে। এলাকায় ক্লিন ইমেজের এই তরুণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মানবিক ও সামাজিক কাজে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। 

জাহেদুল ইসলাম শামীম বলেন, 'ইউনিয়ন নির্বাচন ঘিরে পুরো নির্বাচনী আমেজ চলে এসেছে। ঈদেরপর এটা আরও জমজমাট হয়ে উঠেছে। আমি চাই বড়উঠান ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও মডেল ইউনিয়নে পরিণত করতে। যেখানে থাকবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন। ইউনিয়ন পরিষদ হবে জনগণের সেবার কেন্দ্র-যেখানে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ থাকবে না। আমার ইউনিয়নের মানুষকে আমি আধুনিক, মাদকমুক্ত ও কর্মসংস্থানমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি।'

তিনি আরও বলেন, 'বড়উঠান ইউনিয়নের একাংশ শিল্প জোন। প্রতি বর্ষায় জলবদ্ধতার শিকার হয় এ অঞ্চলের মানুষ। প্রথমে গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে জলবদ্ধতা নিরসন আর বেকারত্ব দূর করা।'

এছাড়াও কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদে নির্বাচনে বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি সিনিয়র সদস্য এসএম মামুন মিয়া, সদস্য সচিব হাজী মুহাম্মদ ওসমান ও রয়েছে আলোচনার শীর্ষে। 

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলোচনায় রয়েছে, কর্ণফুলীর শিকলবাহার উপজেলা যুবদলের আহবায়ক নুরুল ইসলাম, আনোয়ারার বৈরাগের উপজেলা যুবদলের আহবায়ক হারেছ আহমেদ হারেছ, বিএনপির নেতা মো. ফরিদুল আলম, এড. লোকমান শাহ্, চাতরীতে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য জাগির আহমদ সওদাগর, যুবদল নেতা এড. নুরুল কবির রানা, রায়পুরে জেলা বিএনপির সদস্য মাষ্টার মোহাম্মদ রফিক, মাষ্টার মোহাম্মদ ইউসুফসহ একাধিক নেতাকর্মী।

গুয়াপঞ্চক এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিছ বলেন, 'আনোয়ারা-কর্ণফুলীর মানুষ নতুন মুখ হিসেবে তরুণ প্রার্থীদের উপর বেশি ভরসা করছেন।' যাঁরা এলাকার মানুষের উন্নয়নে কাজ করবেন পছন্দের তালিকায় তাদেরই রাখছেন বলে জানান তিনি।

তবে এখনও বিএনপি থেকে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা না এলেও বসে নেই মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। নানাভাবে তাঁরাও চেষ্টা করছেন নেতাকর্মী ও ভোটারদের কাছে যেতে। তবে বিএনপির চেয়ে জামায়াত ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতা তুলনামূলক কম দেখা গেছে এবার ঈদে।

ঈদের আগে বিভিন্ন জায়গায় মনোনয়নপ্রত্যার্শীরা ভোটারদের শাড়ি, লুঙ্গি, নগদ টাকা ও সেমাই-চিনি বিতরণ করেছেন। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান নেতাকর্মীরা। তাঁদের পাশাপাশি অন্য মনোয়নপ্রত্যাশীরাও নানাভাবে সরব মাঠে। বিশেষত ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার, ব্যানার দিয়ে সংসদীয় এলাকার মানুষজনকে নিজের বিষয়ে জানান দিচ্ছেন তাঁরা। তেমনি ঈদ ঘিরে সরব হয়েছে অনেক নতুন মুখ।