জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সরবরাহ ও বিপণন স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। সোমবার ৯টা থেকে উপজেলা পরিষদগুলোতে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রথম দিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কার্ড বিতরণ করা হলেও অতিরিক্ত ভিড় ও ভোগান্তির কারণে পরবর্তীতে প্রতিটি উপজেলায় আলাদাভাবে কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিচ্ছেন গ্রাহকরা। রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করছেন তারা। কাঙ্ক্ষিত কার্ড হাতে পেয়ে অনেকের মুখেই ফুটে উঠেছে স্বস্তির হাসি।
ফুয়েল কার্ড নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক নাজমুল হাসান বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভিড় বেশি থাকায় আগে কার্ড নিতে পারেননি। তবে উপজেলা পর্যায়ে এসে সহজেই কার্ড পেয়েছেন। যদিও তার প্রশ্ন, কার্ড থাকলেও পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
আরেক গ্রাহক আবু সাঈদ জানান, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। একটি কোম্পানির চাকরির কারণে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে চলাচল করতে হয়। তেলের সংকটে অনেক সময় পাম্পেই কেটে যায়। ফুয়েল কার্ড পেলে দ্রুত তেল পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ ও ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ফুয়েল কার্ড বিতরণ শুরু হয়। পরবর্তীতে ১ এপ্রিল থেকে কার্ডের মাধ্যমে তেল সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সময় বাড়িয়ে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম. তারিক-উজ-জামান জানান, দুই দিনে প্রায় ২০ হাজার ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় আবেদন গ্রহণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সংগ্রহে বিশৃঙ্খলা কমবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হবে।




Comments