যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীর নৃশংস হামলায় ইয়াসমিন চৌধুরী (৪৮) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নারী নিহত হয়েছেন। নিহত ইয়াসমিন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৮ নম্বর কুশাখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিকের ছোট বোন। তার মৃত্যুসংবাদ এলাকায় পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে বর্তমানে কুশাখালীর আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্স (Fort Myers) শহরে নিজের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সামনে এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ইয়াসমিন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবক হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঘাতক যুবকের পরনে ছিল লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের ২৪ নম্বর লেখা একটি হলুদ রঙের বাস্কেটবল জার্সি এবং পায়ে হলুদ জুতা। পিঠে একটি সাদা ব্যাগ নিয়ে সে অতর্কিতে ইয়াসমিনের ওপর হাতুড়ি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় ইয়াসমিন স্টোরের বাইরে লুটিয়ে পড়লে ঘাতক তাকে নিথর অবস্থায় ফেলে রেখে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হেঁটে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
নিহতের পরিবার জানায়, ইয়াসমিন দীর্ঘ দিন ধরে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছিলেন। অত্যন্ত পরিশ্রমী ও পরোপকারী হিসেবে পরিচিত এই নারীর এমন মৃত্যুতে ফ্লোরিডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। বর্তমানে তার মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বাংলাদেশে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ জানিয়েছে, তারা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘাতককে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সন্দেহভাজন একজনকে এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশি কনস্যুলেট এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। প্রবাসীদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ওপর এ ধরনের হামলা ক্রমাগত বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments