Image description

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্র সৈকতে ‘সাগর ছায়া’ নামক একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ১৪ জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে কর্ণফুলী থানা পুলিশের একটি দল এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা কর্ণফুলী, বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। কর্ণফুলী থানার বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “এই হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছিল—এমন খবরের ভিত্তিতেই আজ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিকেলেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সাগর ছায়া হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি হোটেলের কর্মচারীরা সাধারণ পর্যটকদের রাস্তা থেকে টেনে-হিঁচড়ে হেনস্তা করে আসছিল। এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর একই হোটেলের ম্যানেজার তুলশ দাশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া হোটেলটির বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে সমুদ্র সৈকতের সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হোটেলের মালিক পরিচয়ে পরিচিত বাঁশখালীর জনৈক এহসান চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার চাক্তাই ভেড়া মার্কেট সংলগ্ন ‘স্বপ্নীল আবাসিক হোটেল’ও পরিচালনা করেন। ওই হোটেলেও ইতিপূর্বে অসামাজিক কাজের অভিযোগে পুলিশি অভিযান হয়েছে। এছাড়া তাঁর হোটেলে অবৈধভাবে রোহিঙ্গা নারীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সাগর ছায়া হোটেলের মালিক এহসান আটকের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “পুলিশ তাদের সন্দেহবশত নিয়ে গেছে। আমাদের সব কাগজপত্র রয়েছে।” তবে সরকারি জমি দখলের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ওই জমিটি জমিদার জয়নাব আলীর, এটি সরকারি জায়গা নয়।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতদের রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পর্যটন এলাকায় সুস্থ পরিবেশ রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর