Image description

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা সুলতানাকে হঠাৎ বদলির আদেশকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলন ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় প্রভাবশালী মহলের চাপে তাকে পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। এই বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।

স্মারকলিপি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদা সুলতানা আদমদীঘিতে যোগদানের পর ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনেন এবং দালালমুক্ত কার্যক্রম নিশ্চিত করেন। বিশেষ করে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ফসলি জমি ও সরকারি পুকুর থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন। সম্প্রতি ছাতিয়ানগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের ফলে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেল-জরিমানা করেন। এতেই ক্ষমতাসীন দলের একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৩০ মার্চ। সান্তাহার নতুন বাজার এলাকায় ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত একটি সরকারি পুকুর থেকে ‘মসজিদের সম্পত্তি’ দাবি করে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করছিলেন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজাহারুল ইসলাম সাজ্জাদ। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে মাটি কাটার অপরাধে আশরাফুল ইসলাম নামের একজনকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)।

এই ঘটনার পর দিনই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে প্রশাসনকে হুমকি প্রদান করেন এবং এসি ল্যান্ডের অপসারণ দাবি করেন। এমনকি সান্তাহার পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশীদকেও সেই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে সরাসরি অপসারণের দাবি জানাতে দেখা যায়। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পরদিনই (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মাহমুদা সুলতানাকে আদমদীঘি থেকে বদলির আদেশ জারি করা হয়।

এলাকাবাসীর দাবি, একজন সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাকে এভাবে রাজনৈতিক চাপে বদলি করা সুশাসনের পরিপন্থী। দ্রুত এই বদলি আদেশ স্থগিত না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

স্মারকলিপি গ্রহণের বিষয়ে রাজশাহী অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ড. চিত্রলেখা নাজনীন জানান, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

মানবকণ্ঠ/ডিআর