Image description

আসন্ন বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার তাঁতপল্লীগুলোতে এখন দম ফেলার সময় নেই শ্রমিকদের। বিশেষ করে উপজেলার চান্দাইকোনা, ধানগড়া ও পৌর এলাকার লক্ষীকোলা গ্রামে বেড়েছে কাজের ব্যাপক চাপ। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এসব এলাকায় ঐতিহ্যবাহী গামছা তৈরির ধুম পড়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন তাঁতঘর ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ঘরেই চলছে তাঁতের খটখট শব্দ। কোথাও সুতা রং করা হচ্ছে, কোথাও চলছে সুতা প্রস্তুতের কাজ, আবার কোথাও শেষ পর্যায়ে তৈরি হচ্ছে বাহারি রঙের গামছা। বৈশাখের অর্ডার সময়মতো সরবরাহ করতে শ্রমিকরা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন।

পৌরসভার লক্ষীকোলা এলাকার তাঁতশ্রমিক হযরত আলী বলেন, ‘নববর্ষ এলেই আমাদের কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এখন দিন-রাত তাঁত চালাতে হচ্ছে। বৈশাখে গামছার চাহিদা অনেক বেশি থাকে, তাই অর্ডার সময়মতো শেষ করতে আমরা সবাই ব্যস্ত।’

তাঁত মালিক তাইজুল ইসলাম জানান, নববর্ষকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই গামছার চাহিদা বাড়ে। এবারও আমরা আগেভাগেই উৎপাদন বাড়িয়েছি। তবে সুতা ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তারপরও বাজারের চাহিদা মেটাতে শ্রমিকদের নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

চান্দাইকোনা ইউনিয়নের রুদ্রপুর এলাকার তাঁত মালিক বাবু ইসলাম জানান, নববর্ষ আমাদের জন্য একটি বড় মৌসুম। এ সময় গামছার প্রচুর অর্ডার থাকে। খরচ বাড়লেও বিক্রি ভালো হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে গামছার বাজার বেশ চাঙ্গা থাকে। রায়গঞ্জের এই গামছা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। তবে এই প্রাচীন শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং কাঁচামালের দাম নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নববর্ষ ঘিরে রায়গঞ্জের তাঁতপল্লীর এই কর্মচাঞ্চল্য শুধু স্থানীয় অর্থনীতিকেই সচল রাখছে না, বরং গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকেও বাঁচিয়ে রাখছে। যথাযথ সহযোগিতা পেলে এ শিল্প আরও বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর