Image description

ময়মনসিংহে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলছে হামের (Measles) প্রাদুর্ভাব। গত ২৩ দিনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় চারদিকে আহাজারি আর আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে এরই মধ্যে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার এবং পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আগেই রোগীদের ছুটি দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী স্বজনরা।

মমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৭ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৩২৪ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জন মারা গেছেন এবং ২৩৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৬ জন রোগী। গত বছরের তুলনায় এ বছর আক্রান্তের হার প্রায় ১৫-২০ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের সামনে রোগীর স্বজনদের উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়া এবং চিকিৎসক-নার্সদের অবহেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। স্বজনদের অভিযোগ, ঠিকমতো চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই অনেককে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা শিশুদের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

মমেক হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পার্সন ও শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. গোলাম মাওলা বলেন, “হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি ভাইরাসজনিত রোগ। তীব্র জ্বর, শরীর মেজমেজ করা, সারা শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ ওঠা, সর্দি ও চোখ লাল হওয়া এর প্রধান লক্ষণ। শিশুর এমন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা এবং প্রচুর তরল ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।”

রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, “সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আমরা আইসোলেশন ওয়ার্ডটি ৬ তলা থেকে ৮ তলায় স্থানান্তর করে শয্যা সংখ্যা বাড়িয়েছি। রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতে আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি। সঠিক সময়ে টিকা এবং যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করলে আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছি।”

স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি অনুযায়ী সতর্কতা জারি থাকলেও মাঠ পর্যায়ে হামের ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণ এবং হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূর করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর